bangladesh · Editorial

ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ (Shaat Gombuj Mosque), বাগেরহাট - ইতিহাস, কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, হোটেল ও রেস্তোরাঁের তথ্য, ভ্রমণ খরচ ও দর্শনীয় জায়গা এবং পরিপূর্ণ...

Photograph · Collected for Tripzao Journal

ষাট গম্বুজ মসজিদ (Shaat Gombuj Mosque) খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় রয়েছে বাংলাদেশের একটা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। মসজিদের দেয়ালগুলো প্রায় ৮ দশমিক ৫ ফুট পুরু।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, খুলনা বিভাগ
  • প্রবেশ মূল্য: ষাট গম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গনে ভেতরে যেতে জনপ্রতি ৩০ টাকায় টিকেট করতে হয়। এছারা শিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য টিকিট মূল্য ফ্রী। সার্কভুক্ত বিদেশী ভ্রমণকারীর জন্যে প্রবেশ টিকেটের

ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ সম্পর্কে

মাঝখানের মিহরাবটি বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। মসজিদটির কোন শিলালিপি না থাকায় ষাট গম্বুজ মসজিদের প্রতিষ্টাতা ও নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়ার সুযোগ আছেনি। ষাট গম্বুজ মসজিদটি বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এছাড়া মমতাজ হোটেলের আশেপাশে অন্য হোটেলগুলোতেও থাকার জন্য খোঁজ নিতে পারেন। এছাড়া ঢাকা থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর ট্রেন চমৎকারবন এক্সপ্রেসে খুলনা এসে সেখান থেকে বাসে বা সিএনজি তে করে করে ষাট গম্বুজ মসজিদ যেতে পারবেন। আর মিনারের উপর চারটি গম্বুজ সহ মোট গম্বুজের সংখ্যা ৮১ টি।

গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, দোলা পরিবহন ও ইগল পরিবহণের গাড়ি ছাড়ে। ষাট গম্বুজ মসজিদ খোলা ও বন্ধের সময়রবিবারে পূর্ণ দিন কেল্লা বন্ধ থাকে এবং সোমবার খোলা হয় বেলা ২.০০ থেকে। কীভাবে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে প্রত্যেক দিন সকাল ৬টা থেকে ১০টা এবং সন্ধা ৭ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত মেঘনা, বনফূল, ফাল্গুনী, আরা, দর্শনার্থী, বলেশ্বর, হামিম ও দোলা পরিবহণের বেশ কিছু বাস ছেড়ে যায়।

শীতকালে কেল্লা খোলা হয় সকাল ৯টায় থেকে আর বিকেল ৫ টায় বন্ধ করা হয়। অন্য দরজাগুলো থেকে মাঝখানের দরজাটি সর্বাধিক বড়।

কোথায় থাকবেন

বাগেরহাটে থাকার জন্য তেমন ভাল ব্যবস্থা নেই, যদিও মাঝারি মানের কিছু আবাসিক হোটেল আছে। প্রতিটি মিনারের চূঁড়ায় রয়েছে একটা করে গোলাকার গম্বুজ। এ মসজিদে ব্যবহৃত পাথরগুলো রাজমহল থেকে আনা হয়েছিলো।

ষাটগম্বুজ মসজিদের প্রায় ৫০০ মিটার পেছনে রয়েছে বিবি বেগনির মসজিদ। অনলাইন টিকেটভ্রমণকারীরা চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে ঘরে বসেই কিউআর কোডযুক্ত অনলাইন টিকেট কিনতে পারবেন, যা মোবাইলে বা প্রিন্ট আউট করে ব্যবহারযোগ্য। যদিও অবশ্যই খাবারের মান ও দাম সম্পর্কে জেনে নিন।

আর উত্তর ও দক্ষিণ দিকের দেয়ালে দরজা আছে ৭টি করে ১৪ টি। যদিও শুক্রবারে জুম্মার নামাযের জন্যে ১২ টা ৩০ মিনিট থেকে থেকে ৩ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত কেল্লা বন্ধ থাকে। স্তম্ভগুলোর চারপাশের ছাদের ওপর তৈরি করা হয়েছে গম্বুজ।

ষাট গম্বুজ মসজিদের গঠন ও বিবরণমসজিদটি বাইরের দিক দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৬০ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ১০৪ ফুট লম্বা। গরমকালে কেল্লা খোলা থাকে সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। বাগেরহাট বাস স্ট্যান্ড থেকে কেবল ৩০ থেকে ৪০ টাকা রিকশা ভাড়ায় ষাটগম্বুজ মসজিদে যাওয়া যায়।

মিনারের ভেতরে রয়েছে প্যাঁচানো সিঁড়ি, আগে এই মিনার থেকে আযান দেবার ব্যবস্থা ছিলো। রেল রোডে মমতাজ হোটেলে সুযোগ সুবিধা কম থাকলেও সেবার মান তুলনামূলক ভাল, যদিও খরচ একটু বেশি। যদিও মসজিদের স্থাপত্যশৈলী দেখে খান-ই-জাহান ১৫০০ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

উত্তর পাশে ১ টি মিহরাবের স্থলে ১ টি ছোট দরজা আছে। দক্ষিণ দিকে ৫ টি এবং উত্তর দিকে ৪টি মিহরাব রয়েছে। খাবার সুবিধাএখানে কিছু মোটামুটি মানের খাবার হোটেল রয়েছে তাই খাওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ড কিংবা দরগার কাছে হোটেলগুলোতে পৌঁছাতে পারবেন।

স্তম্ভগুলো উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে ৬ সারিতে মোট ১০টি করে বিন্যস্ত আছে। এই বাসগুলোতে জনপ্রতি ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা ভাড়া লাগে। প্রতিটি স্তম্ভই পাথরের তৈরী যদিও ৫ টি স্তম্ভ ইট দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে।

ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলোর উচ্চতা একটু বেশি। বহুের মতে, খান-ই-জাহান এই মসজিদটিকে দরবার ঘর হিসেবে ব্যবহার করতেন আর এই দরজা ছিল তার প্রবেশ পথ। মসজিদের মিহরাবের মধ্যবর্তী সারিতে সাতটি গম্বুজ ছাড়া বাকি ৭৪ টি গম্বুজই অর্ধগোলাকার।

প্রবেশের টিকেট মূল্যষাট গম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গনে ভেতরে যেতে জনপ্রতি ৩০ টাকায় টিকেট করতে হয়। মসজিদের চারকোণে চারটি গোলাকার মিনার আছে। এছারা শিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য টিকিট মূল্য ফ্রী।

সার্কভুক্ত বিদেশী ভ্রমণকারীর জন্যে প্রবেশ টিকেটের মূল্য ২০০ টাকা ও সার্ক বহির্ভূত বিদেশী ভ্রমণকারীর টিকিটের মূল্য ৫০০ টাকা। ষাট গম্বুজ মসজিদে ১১ টি সারিতে সর্বমোট ৭৭টি গম্বুজ রয়েছে। আর ভিতরের দিক দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৪৩ ফুট ও পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৮৮ ফুট লম্বা।

শীত ও গরমকাল উভয় সময়ই দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত কেল্লা বন্ধ রাখা হয়। এছাড়াও মহাসড়কের পাশে রয়েছে সিঙ্গাইর মসজিদ। মসজিদের অভ্যন্তরে মোট ষাটটি স্তম্ভ বা পিলার আছে।

মসজিদটির পূর্ব দিকের দেয়ালে রয়েছে ১১ টি বিরাট খিলানযুক্ত দরজা। খুলনা থেকে সময় লাগবে এক থেকে দেড় ঘন্টার মত। আর বাগেরহাট থেকে খুলনা কাছে বলেই, চাইলে খুলনা গিয়েও কোন আবাসিক হোটেলে থাকতে পারবেন।

হাতে সময় থাকলে ফুলের কারুকার্যময় মসজিদটি দেখে আসতে পারেন। মসজিদের সামনের দিকের দুটি মিনারের একটার নাম রওশন কোঠা এবং অন্যটির নাম আন্ধার কোঠা। মসজিদের পশ্চিম দিকের দেয়ালে মিহরাব আছে ১০ টি।

বিবি বেগনির মসজিদের ৫০০ মিটার পেছনের দিকে রয়েছে চুনাখোলা নামের আরেকটি মসজিদ। ইউনেস্কো ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী জায়গাের মর্যাদা দেয়। আশেপাশের দর্শনীয় জায়গাবাগেরহাট জাদুঘরখান জাহান আলীর মাজারমোংলা বন্দরনয় গম্বুজ মসজিদআরও পড়ুনবেলাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদবিবি বেগনী মসজিদশেখ মাহমুদ শাহ মসজিদসুরা মসজিদ

প্রবেশ মূল্য ও সময়সূচি

ষাট গম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গনে ভেতরে যেতে জনপ্রতি ৩০ টাকায় টিকেট করতে হয়। এছারা শিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য টিকিট মূল্য ফ্রী। সার্কভুক্ত বিদেশী ভ্রমণকারীর জন্যে প্রবেশ টিকেটের মূল্য ২০০ টাকা ও সার্ক বহির্ভূত বিদেশী ভ্রমণকারীর টিকিটের মূল্য ৫০০ টাকা। অনলাইন টিকেটভ্রমণকারীরা চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে ঘরে বসেই কিউআর কোডযুক্ত অনলাইন টিকেট কিনতে পারবেন, যা মোবাইলে বা প্রিন্ট আউট করে ব্যবহারযোগ্য।

কীভাবে যাবেন?

ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে প্রত্যেক দিন সকাল ৬টা থেকে ১০টা এবং সন্ধা ৭ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত মেঘনা, বনফূল, ফাল্গুনী, আরা, দর্শনার্থী, বলেশ্বর, হামিম ও দোলা পরিবহণের বেশ কিছু বাস ছেড়ে যায়।

এছাড়া ঢাকা থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর ট্রেন চমৎকারবন এক্সপ্রেসে খুলনা এসে সেখান থেকে বাসে বা সিএনজি তে করে করে ষাট গম্বুজ মসজিদ যেতে পারবেন।

গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, দোলা পরিবহন ও ইগল পরিবহণের গাড়ি ছাড়ে।

বাগেরহাট বাস স্ট্যান্ড থেকে কেবল ৩০ থেকে ৪০ টাকা রিকশা ভাড়ায় ষাটগম্বুজ মসজিদে যাওয়া যায়।

এই বাসগুলোতে জনপ্রতি ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা ভাড়া লাগে।

খুলনা থেকে সময় লাগবে এক থেকে দেড় ঘন্টার মত।

কোথায় থাকবেন?

বাগেরহাটে থাকার জন্য তেমন ভাল ব্যবস্থা নেই, যদিও মাঝারি মানের কিছু আবাসিক হোটেল আছে। এছাড়া মমতাজ হোটেলের আশেপাশে অন্য হোটেলগুলোতেও থাকার জন্য খোঁজ নিতে পারেন। রেল রোডে মমতাজ হোটেলে সুযোগ সুবিধা কম থাকলেও সেবার মান তুলনামূলক ভাল, যদিও খরচ একটু বেশি। আর বাগেরহাট থেকে খুলনা কাছে বলেই, চাইলে খুলনা গিয়েও কোন আবাসিক হোটেলে থাকতে পারবেন।

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

ষাট গম্বুজ মসজিদ-এ প্রবেশ মূল্য কত?

ষাট গম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গনে ভেতরে যেতে জনপ্রতি ৩০ টাকায় টিকেট করতে হয়। এছারা শিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য টিকিট মূল্য ফ্রী। সার্কভুক্ত বিদেশী ভ্রমণকারীর জন্যে প্রবেশ টিকেটের মূল্য ২০০ টাকা ও সার্ক বহির্ভূত বিদেশী ভ্রমণকারীর টিকিটের মূল্য ৫০০ টাকা। অনলাইন টিকেটভ্রমণকারীরা চা

ষাট গম্বুজ মসজিদ কীভাবে যাবেন?

ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে প্রত্যেক দিন সকাল ৬টা থেকে ১০টা এবং সন্ধা ৭ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত মেঘনা, বনফূল, ফাল্গুনী, আরা, দর্শনার্থী, বলেশ্বর, হামিম ও দোলা পরিবহণের বেশ কিছু বাস ছেড়ে যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর ট্রেন চমৎকারবন এক্সপ্রেসে খুলনা এসে সেখান থেকে বাসে বা সিএনজি ত

ঢাকা এলাকায় কোথায় থাকবেন?

বাগেরহাটে থাকার জন্য তেমন ভাল ব্যবস্থা নেই, যদিও মাঝারি মানের কিছু আবাসিক হোটেল আছে। এছাড়া মমতাজ হোটেলের আশেপাশে অন্য হোটেলগুলোতেও থাকার জন্য খোঁজ নিতে পারেন। রেল রোডে মমতাজ হোটেলে সুযোগ সুবিধা কম থাকলেও সেবার মান তুলনামূলক ভাল, যদিও খরচ একটু বেশি। আর বাগেরহাট থেকে খুলনা কাছে বলেই, চাইলে খুলনা গিয়েও

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

Filed under bangladesh guide khulna
A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.