কবি জীবনানন্দ দাস রূপসার ঘোলা জলে কিশোরের নৌকা বাওয়ার কথা লিখেছিলেন। সেই রূপসা নদীর বুকে এখন দাঁড়িয়ে আছে ১.৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ খান জাহান আলী সেতু — যা খুলনার প্রাণ।
- জেলা: খুলনা
- বিভাগ: খুলনা বিভাগ
- প্রবেশ মূল্য: বিনামূল্যে
- সেরা সময়: সন্ধ্যা বা রাতে
- ধরন: স্থাপত্য ও দর্শনীয় সেতু
কেন যাবেন খান জাহান আলী সেতু
জাপানি সহায়তায় নির্মিত এই সেতু শুধু একটা সড়ক সংযোগ না — এটা খুলনাবাসীর প্রিয় আড্ডার জায়গা। পথচারী ও অযান্ত্রিক যানবাহনের জন্য আলাদা লেন আছে, তাই হেঁটে পুরো সেতু পার হওয়ার মজাই আলাদা। রাতের বেলা এই সেতুর উপর থেকে খুলনা শহর দেখার দৃশ্যটা অসাধারণ।
কীভাবে যাবেন
গুলিস্থান বা সায়েদাবাদ থেকে সোহাগ, হানিফ পরিবহনে। ভাড়া ৬৫০–১৪০০৳।
সুন্দরবন এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস বা জাহানাবাদ এক্সপ্রেসে। ভাড়া ৪৪৫–২,৩৮৫৳।
সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে ইজিবাইক বা রিকশায় এম এ বারি রাস্তা ধরে। খুলনা শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার।
কী দেখবেন
সেতুর উপর থেকে রূপসা নদীর বিস্তার দেখতে দেখতে মনে পড়বে জীবনানন্দের কবিতা। সন্ধ্যার পর আলো জ্বলে উঠলে পুরো দৃশ্যটা রূপকথার মতো হয়। পশ্চিম প্রান্তে নদীর পাড়ে বসে চা খেতে খেতে নদীর দিকে তাকিয়ে থাকা — এই সরল আনন্দটুকুর জন্যই মানুষ বারবার আসে।
কোথায় থাকবেন
সাধারণ আবাসিক হোটেল
৳৩০০–৳৮০০/রাত
হোটেল টাইগার গার্ডেন / ওয়েস্টার্ন ইন
৳১,০০০–৳৩,০০০/রাত
কোথায় খাবেন
খুলনায় চুইঝালের ঘুগনি, চুইঝালের খাসি ও গরুর মাংস, খালিশপুরের মেগার মোড়ের বিরিয়ানি বিখ্যাত। সেতুর কাছের চা-র দোকানগুলোতে সন্ধ্যার আড্ডা জমে ভালো।
আনুমানিক বাজেট
সন্ধ্যার পর গেলে সেতুর আলোকসজ্জা দেখতে পাবেন। ছুটির দিনে বেশি ভিড় থাকে, একটু মনোরম অভিজ্ঞতার জন্য বিকেলে যান।
সেতুতে যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। পথচারী লেনে থেকে হাঁটুন এবং ট্র্যাফিক রুলস মেনে চলুন।
খুলনা ভ্রমণের জন্য ঢাকা থেকে সাশ্রয়ী যাতায়াত খুঁজতে Tripzao এ দেখুন — বাস, ট্রেন ও প্যাকেজ একসাথে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
খান জাহান আলী সেতু কি রূপসা সেতু?
হ্যাঁ, একই সেতুর দুটো নাম। সরকারি নাম খান জাহান আলী সেতু হলেও স্থানীয়দের কাছে রূপসা সেতু নামেই পরিচিত।
সেতু দেখতে যেতে কত খরচ?
সেতুতে প্রবেশ বিনামূল্যে। ঢাকা থেকে যাতায়াত ও থাকাসহ মোট ১,৮০০–৩,৫০০৳।
খান জাহান আলী সেতু কি day trip এ যাওয়া যায়?
হ্যাঁ, খুলনা শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে।
