শহরের কোলাহলে থেকে প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে চাইলে মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, বা বোটানিক্যাল গার্ডেন, হতে পারে সেরা বিকল্প। ২০৫ একরের বিশাল এই উদ্যানে ১৩০০-এরও বেশি প্রজাতির গাছ রয়েছে — দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা দুর্লভ উদ্ভিদ, ছায়াঘেরা পথ, আর মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া পানির ধারা মিলিয়ে জায়গাটা সত্যিই অনন্য। জাতীয় চিড়িয়াখানার পাশেই এই উদ্যান — একদিনে দুটো দেখে নেওয়া খুব সহজ।
- প্রবেশ: ৩০৳ (প্রাপ্তবয়স্ক), ১০৳ (শিশু ৬–১২ বছর)
- সময়: প্রতিদিন সকাল ৮টা–সন্ধ্যা ৬টা
- অবস্থান: মিরপুর, ঢাকা — চিড়িয়াখানার পাশে
- এলাকা: ২০৫ একর, ১৩০০+ প্রজাতির উদ্ভিদ
কী কী দেখবেন?
বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে সারি সারি নারিকেল, তাল ও বাঁশের গাছের পথ। ভেতরে রয়েছে অর্কিড হাউস — দেশে-বিদেশে দুর্লভ অর্কিড ফুলের সংগ্রহ দেখলে অবাক হতে হয়। রোজ গার্ডেন অংশে শতাধিক প্রজাতির গোলাপ ফুটে থাকে সারা বছর। ক্যাকটাস গার্ডেন, পানিতে ভাসমান পদ্মের পুকুর, আর বিশাল বটগাছের ছায়ায় বসে সময় কাটানো — এই উদ্যানে আসলে প্রতিটি বাঁকে কিছু না কিছু নতুন পাবে।
কীভাবে যাবেন?
মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনে নেমে রিকশা বা অটোতে ১০–১৫ মিনিটে চিড়িয়াখানা গেটে পৌঁছানো যায়, বোটানিক্যাল গার্ডেন পাশেই।
গাবতলী থেকে লেগুনায় সরাসরি বোটানিক্যাল গার্ডেন — ভাড়া মাত্র ১০৳। সদরঘাট থেকে মিরপুরমুখী বাসে উঠলেও হয়।
Pathao বা Uber-এ ‘National Botanical Garden Mirpur’ লিখলে সরাসরি গেটে পৌঁছে দেবে।
কোথায় খাবেন?
উদ্যানের ভেতরে একটি ছোট ক্যান্টিন আছে যেখানে চা, কফি ও হালকা নাস্তা পাওয়া যায় ৩০–১০০৳-এ। তবে গেটের বাইরের দোকানগুলোতে দাম অনেক বেশি — বাড়ি থেকে পানি ও খাবার নিয়ে আসলে ভালো। কাছের মিরপুর-১ বা মিরপুর-১০ বাজার এলাকায় ১০০–৩০০৳-এ ভালো দুপুরের খাবার পাওয়া যায়।
গেটের বাইরের ফুড স্টলে খাবারের দাম অস্বাভাবিক বেশি। পিকনিকে গেলে নিজেই খাবার প্যাক করে নাও — উদ্যানের ভেতরে বসার জায়গা ও পিকনিক স্পট আছে।
ঢাকা থেকে ঢাকা যাওয়ার সস্তা ফ্লাইট বা হোটেল খুঁজতে Tripzao-এ সার্চ করুন — multi-city route-এ আরও সাশ্রয় হয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
বোটানিক্যাল গার্ডেনে কি পিকনিক করা যায়?
হ্যাঁ, বোটানিক্যাল গার্ডেনে নির্দিষ্ট পিকনিক স্পট আছে। তবে বড় গ্রুপে পিকনিক করতে চাইলে আগে থেকে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে অনুমতি নিতে হয়। সাধারণ পিকনিক বা পারিবারিক আউটিংয়ের জন্য এটি একটি চমৎকার জায়গা।
অর্কিড হাউসে কি বিশেষ কিছু আছে?
অর্কিড হাউসে বাংলাদেশ ও বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা শতাধিক প্রজাতির অর্কিড রয়েছে। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে অর্কিড ফুল ফোটার মৌসুমে গেলে সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য দেখা যায় — এটি গার্ডেনের অন্যতম আকর্ষণ।
চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন কি একসাথে দেখা সম্ভব?
হ্যাঁ, দুটো পাশাপাশি অবস্থিত। সকালে বোটানিক্যাল গার্ডেন দিয়ে শুরু করে দুপুরে চিড়িয়াখানায় গেলে একটি পূর্ণ দিনের পরিবারবান্ধব ট্রিপ হয়ে যায়। সাথে খাবার নিয়ে গেলে আরামদায়ক।