মোগল আমলের এক রাজকীয় স্নানাগার — শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। যশোরের কেশবপুরে এখনও দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৩৭৫ বছরের পুরনো মীর্জানগর হাম্মামখানা।
- জেলা: যশোর
- বিভাগ: খুলনা বিভাগ
- প্রবেশ মূল্য: বিনামূল্যে
- সেরা সময়: অক্টোবর–মার্চ
- ধরন: মোগল ঐতিহাসিক স্থাপত্য
কেন যাবেন মীর্জানগর হাম্মামখানা
১৬৪৯ সালে বাংলার সুবেদার শাহ সুজার শ্যালক পুত্র মীর্জা সফসিকান যশোরের ফৌজদার হিসেবে কপোতাক্ষ ও বুড়িভদ্রা নদীর ত্রিমোহিনীতে মীর্জানগর গড়ে তোলেন। পরে সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নুরলা খাঁ মতিঝিল দুর্গ নির্মাণ করেন এবং দুর্গের এক অংশে তৈরি হয় চার গম্বুজবিশিষ্ট এই হাম্মামখানা। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
কীভাবে যাবেন
কল্যাণপুর বা গাবতলী থেকে বাসে যশোর। নন-এসি ৫৫০–৭৫০৳, এসি ৭৫০–১,৩০০৳।
যশোর থেকে স্থানীয় বাসে কেশবপুর উপজেলা সদর (প্রায় ৩২ কিমি)। ভাড়া ৫০–৭০৳।
কেশবপুর সদর থেকে ভ্যান বা মোটরসাইকেলে ৭ কিলোমিটার। ভাড়া ৩০–৫০৳।
কী দেখবেন
চার গম্বুজের হাম্মামখানার পশ্চিম ও পূর্ব দিকে দুটো করে মোট চারটি কক্ষ আছে। পূর্বের কক্ষগুলো চৌবাচ্চা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দক্ষিণ দিকে একটি চৌবাচ্চা ও সুড়ঙ্গ আছে যেটিকে তোশাখানা বলে মনে করা হয়। দুর্গের প্রায় সব অংশ এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও হাম্মামখানার অস্তিত্ব এখনও টিকে আছে।
কোথায় থাকবেন
যশোর — সাধারণ হোটেল
৳৩০০–৳৮০০/রাত
হোটেল সিটি প্লাজা / হাসান ইন্টারন্যাশনাল
৳১,০০০–৳২,৫০০/রাত
কোথায় খাবেন
কেশবপুর বাজারে স্থানীয় খাবারের হোটেল আছে। যশোর শহরে ফিরে জামতলার মিষ্টি, চুকনগরের চুই ঝাল বা জনি কাবাবের স্বাদ নিতে পারেন।
আনুমানিক বাজেট
কেশবপুর থেকে হনুমান গ্রাম আর মধুপল্লী একসাথে দেখে নিলে একটি পূর্ণ দিনের ট্রিপ হয়ে যায়।
বর্ষা মৌসুমে (জুন–সেপ্টেম্বর) এলাকা পিচ্ছিল হতে পারে, তাই শুকনো মৌসুমে যাওয়া ভালো।
যশোর ভ্রমণের জন্য ঢাকা থেকে সাশ্রয়ী যাতায়াত খুঁজতে Tripzao এ দেখুন — বাস, ট্রেন ও প্যাকেজ একসাথে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
মীর্জানগর হাম্মামখানা যেতে কত খরচ হয়?
ঢাকা থেকে মোট ২,০০০–২,৫০০৳ এর মধ্যে দিনের ট্রিপ সম্ভব। প্রবেশ বিনামূল্যে।
সেরা সময় কোনটা?
অক্টোবর থেকে মার্চ — আবহাওয়া শীতল এবং রাস্তা ভালো থাকে।
day trip এ যাওয়া যাবে?
হ্যাঁ, কেশবপুর থেকে ভ্যানে গিয়ে ফেরা সম্ভব। পাশে হনুমান গ্রামও দেখা যায়।
