bangladesh · Editorial

নুহাশ পল্লী

হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টি নুহাশ পল্লী যাওয়ার উপায়, কি দেখবেন, নুহাশ পল্লীতে পিকনিক বুকিং ও ভ্রমণ খরচ সম্পর্কে জানতে নন্দন কানন নুহাশ পল্লী ভ্রমণ গাইড পড়ুন।

Photograph · Collected for Tripzao Journal

নুহাশ পল্লী (Nuhash Polli) নন্দন কাননটি গাজীপুর জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে পিরুজালী গ্রামে রয়েছে। ঢাকা থেকে হোতাপাড়া যেতে বাসে চড়ার জায়গাভেদে ভাড়া লাগবে ৫০ থেকে ৮০ টাকা।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, ঢাকা বিভাগ
  • প্রবেশ মূল্য: নুহাশ পল্লী ঢুকতে কোন পূর্ব অনুমতি লাগেনা। ২০০ টাকা এন্ট্রি ফি দিয়ে যে কেউ ঢুকতে পারে। হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত করতে হলে কোন প্রবেশ ফি লাগেনা। ১০ বছরের নীচে বাচ্চাদের, ড্রাইভার এবং গাড়ি পার্ক এর জন্

নুহাশ পল্লী

নুহাশ পল্লী সম্পর্কে

টেম্পোর ভাড়া লাগবে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সুইমিং পুল পেরিয়ে সামনে এগিয়ে গেলেই একে একে দেখতে পাওয়া যায় হুমায়ূন আহমেদের কটেজ, দাবা খেলার ঘর এবং নামাজ পড়ার জায়গা। নানা নাটক, সিনেমার শুটিং এর পাশাপাশি নুহাশ পল্লীতেই হুমায়ূন আহমেদ তার জীবনের বহুটা সময় কাটিয়েছেন।

১৯৮৭ সালে ২২ বিঘা জমিতে হুমায়ূন আহমেদ তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন শুরু করেন। নুহাশ পল্লীতে টিকিট মূল্যনুহাশ পল্লী ঢুকতে কোন পূর্ব অনুমতি লাগেনা। এছাড়াও সাজানো গুছানো নুহাশ পল্লীতে একটা দিন কাটানোর ক্ষণে ক্ষণেই আপনি সমস্ত নুহাশ পল্লীতে কবির অস্তিত্ব অনুভব করবেন।

এই দিঘির মাঝখানে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম দ্বীপ যা একটা কাঠের সেতুর সাথে যুক্ত। আশেপাশে দর্শনীয় জায়গানুহাশ পল্লীর খুব কাছেই বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। ১০ বছরের নীচে বাচ্চাদের, ড্রাইভার এবং গাড়ি পার্ক এর জন্য কোন টাকা লাগেনা।

এই প্রান্তরের বাম পাশের লিচু বাগানে শায়িত আছেন গল্পের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত করতে হলে কোন প্রবেশ ফি লাগেনা। ঔষধি গাছের বাগানের পেছনে রয়েছে টিন এবং কাদামাটি দিয়ে তৈরি করা শুটিং স্পট।

নুহাশ পল্লীতে প্রবেশ পথের পরই হাতের বাম দিকে দৃষ্টিনন্দন সবুজ প্রান্তর চোখে পড়বে। আর বাগানের সামনের দিকে রয়েছে মৎস্য কন্যা ও রাক্ষসের মূর্তি। যদিও সাফারি পার্ক পুরোটা ঘুরে দেখতে বহু সময় লাগবে।

এই কটেজের বারান্দাতে বসেই হুমায়ূন আহমেদ বৃষ্টি ও পূর্নিমা দেখতে পছন্দ করতেন। হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে টেম্পো, রিকশা অথবা অটোরিকশায় করে নুহাশ পল্লী যাওয়া যায়। ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় পরিবার বা প্রিয়জন নিয়ে একদিনেই ঘুরে দেখে আসতে পারবেন নুহাশ পল্লী।

ভারতের প্রখ্যাত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ এই সুইমিং পুলেই সাঁতার কেটে ছিলেন। হুমায়ূন পুত্র নুহাশের নামানুসারে নুহাশ পল্লী নামকরণ করা হয়। নুহাশ পল্লীতে রয়েছে একটা ঔষধি গাছের বাগান, এছাড়াও রয়েছে প্রায় ৩০০ প্রজাতির নানা গাছ।

রিকশা ভাড়া লাগবে ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং সিএনজি ভাড়া লাগবে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। ঠিক উল্টো দিকেই রয়েছে তাঁর সুপরিচিত ট্রি হাউজ। নুহাশ পল্লীর সর্ব উত্তরে রয়েছে লীলাবতী দিঘি।

লীলাবতি দিঘির পাশেই রয়েছে ‘ভুতবিলাস’ নামক আরো একটা ভবন। যেভাবে যাবেননুহাশ পল্লীতে যেতে প্রথমে গাজীপুরের হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ডে আসতে হবে। কবর জিয়ারতের জন্য মূল গেইটের বাইরে বাম দিয়ে সমাধির জন্য আলাদা আরেকটি গেইট আছে যে কেউ সেই গেইট দিয়ে ঢুকে কবর জিয়ারত করার সুযোগ পাবেন।

শিশুদের বিনোদনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ভুত ও ব্যাঙের আকারের ভাস্কর্য। তাই আপনি আপনার সময় অনুযায়ী নুহাশপল্লীর সাথে সাথে সাফারি পার্ক ঘুরে দেখার পরিকল্পনা সাজাতে পারেন। ঢাকা থেকে প্রভাতি, বনশ্রী ইত্যাদি বেশ কিছু বাস সার্ভিস চলাচল করে।

নুহাশ পল্লীর বর্তমান আয়তন প্রায় ৪০ বিঘা। ঢাকা থেকে একদিনে নুহাশ পল্লী ঘুরে আসার পরিকল্পনা থাকলে এর সাথে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকেও পরিদর্শন করতে পারবেন। এর পাশে কনক্রিট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ডাইনোসারের মূর্তি।

নুহাশ পল্লীর প্রবেশ পথ ধরে এগিয়ে গেলেই জায়গাীয় স্থপতি আসাদুজ্জামান খানের ‘মা ও শিশু’ নামক ভাস্কর্যটি দেখেতে পাবেন। ২০০ টাকা এন্ট্রি ফি দিয়ে যে কেউ ঢুকতে পারে। এরপরেই রয়েছে বিশাল টিনশেডের বারান্দাসহ ‘বৃষ্টিবিলাস’ কটেজ।

নুহাশ পল্লীর প্রতিটি স্থাপনায় মিশে আছে গল্পের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের স্পর্শ এবং ভালোবাসা। এর পাশেই তৈরী করা হয়েছে আঁকাবাঁকা সুইমিং পুল। চাইলে নিজের ব্যাক্তিগত গাড়ি নিয়েও বেড়াতে যেতে পারবেন নুহাশ পল্লী।

এছাড়া চলার পথে ইচ্ছে হলে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে কিছুটা সময় কাটিয়ে পৌঁছাতে পারবেন।

প্রবেশ মূল্য ও সময়সূচি

নুহাশ পল্লী ঢুকতে কোন পূর্ব অনুমতি লাগেনা। ২০০ টাকা এন্ট্রি ফি দিয়ে যে কেউ ঢুকতে পারে। হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত করতে হলে কোন প্রবেশ ফি লাগেনা। ১০ বছরের নীচে বাচ্চাদের, ড্রাইভার এবং গাড়ি পার্ক এর জন্য কোন টাকা লাগেনা। কবর জিয়ারতের জন্য মূল গেইটের বাইরে বাম দিয়ে সমাধির জন্য আলাদা আরেকটি গেইট আছে যে কেউ সেই গেইট দিয়ে ঢুকে কবর জিয়ারত করার সুযোগ পাবেন।

কীভাবে যাবেন?

নুহাশ পল্লীতে যেতে প্রথমে গাজীপুরের হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ডে আসতে হবে।

রিকশা ভাড়া লাগবে ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং সিএনজি ভাড়া লাগবে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা।

হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে টেম্পো, রিকশা অথবা অটোরিকশায় করে নুহাশ পল্লী যাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে প্রভাতি, বনশ্রী ইত্যাদি বেশ কিছু বাস সার্ভিস চলাচল করে।

ঢাকা থেকে হোতাপাড়া যেতে বাসে চড়ার জায়গাভেদে ভাড়া লাগবে ৫০ থেকে ৮০ টাকা।

টেম্পোর ভাড়া লাগবে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

নুহাশ পল্লী-এ প্রবেশ মূল্য কত?

নুহাশ পল্লী ঢুকতে কোন পূর্ব অনুমতি লাগেনা। ২০০ টাকা এন্ট্রি ফি দিয়ে যে কেউ ঢুকতে পারে। হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত করতে হলে কোন প্রবেশ ফি লাগেনা। ১০ বছরের নীচে বাচ্চাদের, ড্রাইভার এবং গাড়ি পার্ক এর জন্য কোন টাকা লাগেনা। কবর জিয়ারতের জন্য মূল গেইটের বাইরে বাম দিয়ে সমাধির জন্য আলাদা আরেকটি গেইট আছে যে

নুহাশ পল্লী কীভাবে যাবেন?

নুহাশ পল্লীতে যেতে প্রথমে গাজীপুরের হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ডে আসতে হবে। রিকশা ভাড়া লাগবে ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং সিএনজি ভাড়া লাগবে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে টেম্পো, রিকশা অথবা অটোরিকশায় করে নুহাশ পল্লী যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে প্রভাতি, বনশ্রী ইত্যাদি বেশ কিছু বাস সার্ভিস চলাচল করে। ঢাকা

নুহাশ পল্লী সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?

নুহাশ পল্লী (Nuhash Polli) নন্দন কাননটি গাজীপুর জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে পিরুজালী গ্রামে রয়েছে। ঢাকা থেকে হোতাপাড়া যেতে বাসে চড়ার জায়গাভেদে ভাড়া লাগবে ৫০ থেকে ৮০ টাকা। টেম্পোর ভাড়া লাগবে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

Filed under bangladesh Dhaka guide
A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.