bangladesh · Editorial

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ও ট্রেইল

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল ভ্রমণ, টিপরা খুম, কুপিটা খুম, বাঘবিয়ানী ঝর্না ও বান্দরখুম ঝর্ণায় যাওয়ার উপায়, কোথায় থাকবেন, কোথায় খাবেন, খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন।

Photograph · Collected for Tripzao Journal

অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় দর্শনার্থীদের কাছে নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা (Napittachora Waterfall) এখন বেশ পরিচিত একটা নাম। এসি বাসের মধ্যে গ্রিনলাইন, সৌদিয়া, সোহাগ, টি আর এইসব বাস ভাড়া ৮৫০-১,০০০ টাকা।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম বিভাগ

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ও ট্রেইল

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ও ট্রেইল সম্পর্কে

সেই ঝর্ণা দেখে আবার পিছনে এসে আগের ঝিরি ধরে সামনের এগিয়ে গেলে কিছু চমৎকার ক্যাসকেড পাবেন আর ঝিরির শেষে দেখা পাবেন বান্দর খুম ঝর্ণার। এই ঝর্ণা দেখে আবার আগের পথ ধরে ফিরে আসুন। এছাড়া বছরের যে কোন সময়ই যেতে পারবেন, যদিও শীতকালে পানি বহু কমে যায়।

আপনার পছন্দ মত বাসে এসে মিরসরাই এর নয়দুয়ারী বাজারে নেমে রওনা দিতে হবে। এই ট্রেইলে আছে টিপরা খুম, কুপিটা খুম, বাঘবিয়ানী ঝর্না ও বান্দরখুম নামের আরও বেশ কিছু ঝর্ণা ও খুম। জায়গাীয় মানুষদের সাথে এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের সাথে শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ করবেন।

কীভাবে যাবেন

দেশের যেখান থেকেই আসুন এই ট্রেইলে যেতে প্রথমে আপনাকে চট্টগ্রামের মিরসরাই এর নয় দুয়ারী বাজার আসতে হবে। ভাড়া ১৫০-২০০ টাকা। এই ঝিরি ধরে ৩০ মিনিটের মত গেলে ঝিরির শেষ মাথায় বাঘ বিয়ানী ঝর্ণা দেখার সুযোগ পাবেন।

যদিও আপনার যদি ট্রেইল সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকে তাহলে নিজেরাই ট্রেকিং করতে পারেন। আর এই ঝর্ণাই নাপিত্তা ছড়া ঝর্ণা নামে পরিচিত। নাপিত্তাছড়া ট্রেইলনয়দুয়ারী বাজার থেকে পূর্ব দিকের রাস্তা রেল লাইন পার হয়ে আরও কিছুদূর হেঁটে গেলে নাপিত্তা ছড়া পাড়ার দেখা পাবেন।

আবহ রক্ষা: চিপস, বিস্কুট বা পানির বোতল ট্রেইলে ফেলে আসবেন না। চাইলে শুধু নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা বা বান্দরখুম ঝর্না দেখেও ফিরে আসতে পারেন। কিছুদূর যাওয়ার পর প্রথমে এই ট্রেইলের টিপরা খুমের দেখা পাবেন।

এই খুম বেশ গভীর। পুরো ট্রেইল হেঁটে দেখতে ৪-৫ ঘন্টা লাগবে, যদিও তা নির্ভর করবে আপনি পাহাড়ি ও ঝিরিতে হাটতে কতটুকু অভ্যস্ত তাঁর উপর। তুলনামূলক সহজ ট্রেইল হওয়ায় একটু কষ্ট করলে একদিনেই পুরো ট্রেইল হেঁটে উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

এছাড়া সীতাকুণ্ডে আসলে সেখানের সৌদিয়া রেস্তোরাঁ, আপন রেস্তোরাঁ কিংবা আল আমিন রেস্তোরাঁে পছন্দের খাবার খেতে পারবেন। এখানে থাকতে আপনাকে ৮০০ থেকে ২,৫০০ টাকা খরচ করতে হবে। আরও পড়ুনঃ চট্টগ্রামের সেরা ১৪ হোটেলসতর্কতা ও টিপসযেহেতু প্রায় পুরো পথই পাহাড়ি ও ঝিরি তাই ভাল মানের গ্রিপসহ জুতা পরে ট্রেকিং করা সুবিধাজনক।

সেখানে হোটেল সৌদিয়া, হোটেল শৈবাল, গোল্ডেন আবাসিক হোটেল, হোটেল রাজ ও সন্দ্বীপ হোটেলে থাকতে পারেন। প্রয়োজনে জায়গাীয় কাউকে জিজ্ঞেস করলেই পথ দেখিয়ে দিবে। সাথে করে প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ রাখা ভালো।

নয় দুয়ারী বাজার থেকে ৪০-৫০ মিনিট হেঁটে এই ট্রেইল শুরু করতে হবে। ঢাকা থেকে নাপিত্তাছড়াঢাকা থেকে বাসে: ঢাকার যে কোন জায়গা থেকে চট্রগ্রাম গামী যে কোন বাসে করে নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা যেতে পারবেন।

কোথায় খাবেন

নয়দুয়ারী বাজারে বেশ কিছু মাঝারি মানের খাবারের হোটেল আছে। আর যদি একেবারেই অনভিজ্ঞ হোন আর পুরো ট্রেইল কভার করতে চান তাহলে সাথে কাউকে গাইড হিসেবে নিয়ে নেওয়াই ভালো হবে। এস আলম, শ্যামলি, সৌদিয়া, ইউনিক, হানিফ, ঈগল, এনা প্রভৃতি পরিবহনের নন এসি বাস ভাড়া ৬৫০- ৭০০ টাকা।

টিপরা খুমের উপরেই কুপিকাটা খুম। আরও লাক্সারি থাকতে চাইলে আপনাকে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী বা চট্টগ্রাম মূল শহরে চলে রওনা দিতে হবে। পাথুরে রাস্তা পিচ্ছিল থাকে, তাই সেইদিকে সতর্ক থাকা উচিৎ।

তাই বর্ষায় ঘুরতে গেলে সেই ব্যাপারেও সাবধান থাকা ভালো। চট্রগ্রাম থেকে নাপিত্তাছড়াচট্টগ্রাম নগরের অলংকার সিটি গেইট থেকে কিছু লোকাল বাসে করে মিরসরাই এর নয়দুয়ারী বাজার আসতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

এই ট্রেইল যেহেতু দিনে দিনেই শেষ করার সুযোগ পাবেন তাই কোথাও থাকার দরকার প্রয়োজন হয়না। এই বান্দরখুম ঝর্ণাই এই ট্রেইলের সবচেয়ে চমৎকার ঝর্ণা। ঢাকা থেকে ট্রেনে: ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম গামী যে কোন আন্তঃনগর ট্রেনে এসে ফেনী স্টেশনে নামতে হবে।

কুপিকাটা খুমের ডান পাশ দিয়ে পাহাড়ে উঠে আবার ঝিরিতে নেমে সামনে গেলে হাতের বামে আরও একটা ঝিরি পড়বে। পাহাড়ে জোঁকের উপদ্রব থাকতে পারে, সাথে লবণ বা গুল রাখা ভালো। যদিও যদি আপনি আরও জায়গা ঘুরে দেখতে চান আর রাতে থাকার দরকার হয় তাহলে নয়দুয়ারী বাজার থেকে সীতাকুণ্ড বাজারে চলে রওনা দিতে হবে।

সেখান থেকে থেকে ঝিরি ও পাহাড়ি পথের ট্রেকিং শুরু হবে। সুপারভাইজারকে আগে বলে রাখলে আপনাকে নামিয়ে দিবে। তখন ঝর্ণা গুলোতে বেশ পানি থাকে।

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইয়ের রয়েছে একটা ঝর্ণা। ঝর্ণায় যাবার যে ঝিরিপথ আছে তা নাপিত্তাছড়া ট্রেইল নামে পরিচিত। নাপিত্তাছড়া ট্রেইল গাইডনয়দুয়ারী বাজার থেকে ট্রেইল ঘুরে দেখার জন্যে প্রয়োজনে জায়গাীয় কাউকে গাইড হিসেবে নিয়ে নিতে পারেন।

সেখান থেকে লোকাল বাসে বা লেগুনাতে করে মিরসরাই এর নয়দুয়ারী বাজার আসতে পারবেন। বিশেষ করে ‘দর্শনার্থী হোটেল এন্ড রেস্তোরাঁ’ ও জায়গাীয় কিছু খাবারের জায়গায় প্যাকেজ সিস্টেমে (ভাত, ডাল, ভর্তা, মাংস) খাওয়া যায়। মূলত এটি একটা ক্যাসকেড।

বর্ষায় ঝিরিতে পানির তোড় বহু বেশি থাকে, সাঁতার না জানলে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। জনপ্রতি খরচ ১৫০-২৫০ টাকা। কখন যাবেনঝর্ণায় যাবার সবচেয়ে ভাল সময় বর্ষাকাল।

শ্রেনী ভেদে ট্রেন ভাড়া জন প্রতি ৩৩০-৭৪০ টাকা। যদিও অতি বর্ষার সময় ফ্ল্যাশ ফ্লাডের আশঙ্কা থাকে। ফেনী স্টেশন থেকে ২০-২৫ টাকা রিক্সা/অটো দিয়ে ফেনী মহিপাল বাস স্ট্যান্ড রওনা দিতে হবে।

ময়লা নির্দিষ্ট জায়গাে বা সাথে করে নিয়ে আসুন। আরও পড়ুনলাংলোক ঝর্ণাকুমারী ঝর্ণাথানকোয়াইন ঝর্ণা

কীভাবে যাবেন?

ঝর্ণায় যাবার সবচেয়ে ভাল সময় বর্ষাকাল।

যদিও অতি বর্ষার সময় ফ্ল্যাশ ফ্লাডের আশঙ্কা থাকে।

তাই বর্ষায় ঘুরতে গেলে সেই ব্যাপারেও সাবধান থাকা ভালো।

তখন ঝর্ণা গুলোতে বেশ পানি থাকে।

এছাড়া বছরের যে কোন সময়ই যেতে পারবেন, যদিও শীতকালে পানি বহু কমে যায়।

কোথায় থাকবেন?

এই ট্রেইল যেহেতু দিনে দিনেই শেষ করার সুযোগ পাবেন তাই কোথাও থাকার দরকার প্রয়োজন হয়না। এখানে থাকতে আপনাকে ৮০০ থেকে ২,৫০০ টাকা খরচ করতে হবে। সেখানে হোটেল সৌদিয়া, হোটেল শৈবাল, গোল্ডেন আবাসিক হোটেল, হোটেল রাজ ও সন্দ্বীপ হোটেলে থাকতে পারেন। আরও লাক্সারি থাকতে চাইলে আপনাকে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী বা চট্টগ্রাম মূল শহরে চলে রওনা দিতে হবে। যদিও যদি আপনি আরও জায়গা ঘুরে দেখতে চান আর রাতে থাকার দরকার হয় তাহলে নয়দুয়ারী বাজার থেকে সীতাকুণ্ড বাজারে চলে রওনা দিতে হবে। আরও পড়ুনঃ চট্টগ্রামের সেরা ১৪ হোটেল

কোথায় খাবেন?

নয়দুয়ারী বাজারে বেশ কিছু মাঝারি মানের খাবারের হোটেল আছে। জনপ্রতি খরচ ১৫০-২৫০ টাকা। বিশেষ করে ‘দর্শনার্থী হোটেল এন্ড রেস্তোরাঁ’ ও জায়গাীয় কিছু খাবারের জায়গায় প্যাকেজ সিস্টেমে (ভাত, ডাল, ভর্তা, মাংস) খাওয়া যায়। এছাড়া সীতাকুণ্ডে আসলে সেখানের সৌদিয়া রেস্তোরাঁ, আপন রেস্তোরাঁ কিংবা আল আমিন রেস্তোরাঁে পছন্দের খাবার খেতে পারবেন।

ট্রাভেল টিপস

⭐ দরকারী টিপ

যেহেতু প্রায় পুরো পথই পাহাড়ি ও ঝিরি তাই ভাল মানের গ্রিপসহ জুতা পরে ট্রেকিং করা সুবিধাজনক। পাহাড়ে জোঁকের উপদ্রব থাকতে পারে, সাথে লবণ বা গুল রাখা ভালো। পাথুরে রাস্তা পিচ্ছিল থাকে, তাই সেইদিকে সতর্ক থাকা উচিৎ। বর্ষায় ঝিরিতে পানির তোড় বহু বেশি থাকে, সাঁতার না জানলে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আবহ রক্ষা: চিপস, বিস্কুট বা পানির বোতল ট্রেইলে ফেলে আসবেন না। জায়গাীয় মানুষদের সাথে এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের সাথে শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ করবেন। ময়লা নির্দিষ্ট জায়গাে বা সাথে করে নিয়ে আসুন। সাথে করে প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ রাখা ভালো। আরও পড়ুনলাংলোক ঝর্ণাকুমারী ঝর্ণাথানকোয়াইন ঝর্ণা

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ও ট্রেইল কীভাবে যাবেন?

ঝর্ণায় যাবার সবচেয়ে ভাল সময় বর্ষাকাল। যদিও অতি বর্ষার সময় ফ্ল্যাশ ফ্লাডের আশঙ্কা থাকে। তাই বর্ষায় ঘুরতে গেলে সেই ব্যাপারেও সাবধান থাকা ভালো। তখন ঝর্ণা গুলোতে বেশ পানি থাকে। এছাড়া বছরের যে কোন সময়ই যেতে পারবেন, যদিও শীতকালে পানি বহু কমে যায়।

ঢাকা এলাকায় কোথায় থাকবেন?

এই ট্রেইল যেহেতু দিনে দিনেই শেষ করার সুযোগ পাবেন তাই কোথাও থাকার দরকার প্রয়োজন হয়না। এখানে থাকতে আপনাকে ৮০০ থেকে ২,৫০০ টাকা খরচ করতে হবে। সেখানে হোটেল সৌদিয়া, হোটেল শৈবাল, গোল্ডেন আবাসিক হোটেল, হোটেল রাজ ও সন্দ্বীপ হোটেলে থাকতে পারেন। আরও লাক্সারি থাকতে চাইলে আপনাকে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী বা চট্টগ্রাম

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ও ট্রেইল সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?

অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় দর্শনার্থীদের কাছে নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা (Napittachora Waterfall) এখন বেশ পরিচিত একটা নাম। এসি বাসের মধ্যে গ্রিনলাইন, সৌদিয়া, সোহাগ, টি আর এইসব বাস ভাড়া ৮৫০-১,০০০ টাকা। সেই ঝর্ণা দেখে আবার পিছনে এসে আগের ঝিরি ধরে সামনের এগিয়ে গেলে কিছু চমৎকার ক্যাসকেড পাবেন আর ঝিরির শেষে দেখা পাবেন বা

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.