মক্কায় যাচ্ছেন হজ বা উমরায়? আল্লাহর ঘরের কাছে যাওয়ার এই পবিত্র সফরে কিছু মানুষ দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভিক্ষার নামে প্রতারণা করে। বাংলাদেশি হাজিরা সবচেয়ে বেশি টার্গেট হন — কারণ আমরা সহজে সফট-হার্টেড। কিছু জিনিস আগে থেকে জানলে ধোঁকায় পড়বেন না।
- স্থান: মক্কা ও মদিনা, সৌদি আরব
- সবচেয়ে বেশি ঘটে: মসজিদুল হারামের বাইরে, মিনা রাস্তায়
- সাধারণ দাবি: ৫০–৫০০ SAR (বাংলাদেশ থেকে আটকে গেছে বলে)
- আইনি স্ট্যাটাস: সৌদি আরবে ভিক্ষা করা বেআইনি
সবচেয়ে কমন স্ক্যাম: “আটকে গেছি” গল্প
একজন বাংলাভাষী লোক কাঁদতে কাঁদতে বলবে তার টাকা চুরি হয়েছে বা পাসপোর্ট হারিয়েছে, দেশে ফিরতে পারছে না। আসলে এটা একটা পেশাদার স্ক্যাম। প্রতি সিজনে একই লোককে একই গল্পে দেখা যায়। সরাসরি দূতাবাসের নম্বর দিন, নগদ দেবেন না।
শিশু ভিক্ষুক নেটওয়ার্ক
মিনার রাস্তায় বা হোটেল সামনে শিশুরা টাকা চাইতে পারে। এরা অনেক সময় সংঘবদ্ধ গ্রুপের অংশ — টাকা পান মুরব্বিরা। দেওয়া না দেওয়া ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, কিন্তু জেনে রাখুন।
মহিলা ভিক্ষুক গ্রুপ এবং পকেটমারি
একদল মহিলা ভিক্ষুক হঠাৎ আপনাকে ঘিরে ধরতে পারে। এ সময় পকেটমারি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। টাকা, ফোন, পাসপোর্ট সবসময় সামনের পকেটে বা ব্যাগের ভেতরে রাখুন।
ভুয়া ধর্মীয় বই বিক্রেতা
কেউ বলবে “এটা হাদিসের কিতাব, ফ্রি দিচ্ছি।” বই হাতে দিয়ে পরে টাকা চাইবে। হাতে নেওয়ার আগেই বলুন “না, ধন্যবাদ।”
প্রকৃত দরিদ্রকে কীভাবে সাহায্য করবেন
সৌদি সরকার অনুমোদিত যাকাত ফান্ড এবং মসজিদ ভিত্তিক সাহায্য কার্যক্রম আছে। সেখানে দান করুন। ব্যক্তিকে সরাসরি দিতে চাইলে খাবার বা পানি দিন — নগদ নয়।
সৌদি আরবে পেশাদার ভিক্ষুকদের ধরা পড়লে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আপনার দেওয়া টাকা এই অবৈধ কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে পারে। সচেতন থাকুন।
হজ বা উমরা ট্রিপের সেরা ফ্লাইট এবং প্যাকেজ খুঁজুন Tripzao এ — Biman Bangladesh Airlines সহ সব এয়ারলাইনের তুলনামূলক দাম এক জায়গায়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
সৌদি আরবে ভিক্ষা করা কি বৈধ?
না, সৌদি আরবে ভিক্ষা করা সম্পূর্ণ বেআইনি। পেশাদার ভিক্ষুকদের গ্রেফতার করে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাই অনেক ভিক্ষুক আসলে “বিপদে পড়া যাত্রী” সেজে কাজ করে।
কাউকে সত্যিই বিপদে দেখলে কী করব?
সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাস হেল্পলাইন নম্বরটা সেভ রাখুন। সত্যিকারের বিপদে পড়া হাজিদের জন্য তারাই সাহায্য করতে পারবে — আপনার নগদ দেওয়ার চেয়ে এটা অনেক কার্যকর।
পকেটমারি থেকে বাঁচতে কী করব?
ইহরামের মধ্যে পকেট থাকে না — তাই মানিব্যাগ বা ফোন হ্যান্ডেলড ব্যাগে রাখুন সামনের দিকে। জনসমাগমে সতর্ক থাকুন, বিশেষত তাওয়াফের সময়।
