পুরনো দিল্লি — শাহজাহানাবাদ — হাঁটলে মনে হয় মোঘল আমলে ফিরে গেছেন। সরু গলির দুইপাশে মসজিদ, মন্দির, মশলার দোকান আর রিকশার ভিড় — এই পুরনো দিল্লি হেরিটেজ ওয়াক নতুন দিল্লির চকচকে মেট্রো শহরের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এক জগৎ। সকাল ৭-৮টায় শুরু করুন — ভিড় কম থাকে, আলো ভালো।
শুরুর পয়েন্ট: জামা মসজিদ | দৈর্ঘ্য: ৩-৫ কিমি হাঁটা, ৩-৪ ঘণ্টা | মেট্রো: Yellow Line এ Chawri Bazar বা Chandni Chowk Station | সেরা সময়: সকাল বা বিকেল, গরমে সূর্য এড়িয়ে | গাইড: ঐচ্ছিক কিন্তু recommended
১. জামা মসজিদ (Jama Masjid)
ভারতের বৃহত্তম মসজিদ — একসাথে ২৫,০০০ মানুষ নামাজ পড়তে পারেন। ১৬৫৬ সালে শাহজাহান নির্মিত লাল বেলেপাথরের এই মসজিদ বাংলাদেশি মুসলিম ট্রাভেলারদের জন্য বিশেষ পবিত্র স্থান। মিনারে উঠলে পুরনো দিল্লির প্যানোরামিক দৃশ্য পাওয়া যায়। প্রবেশ বিনামূল্যে।
২. চাঁদনি চক (Chandni Chowk)
মোঘল আমলে চাঁদের আলোয় ঝলমলানো এই বাজার — নাম তাই Chandni (চাঁদ) Chowk। সরু গলিতে ইলেকট্রনিক্স, কাপড়, জুয়েলারি, মশলা সব পাবেন। রিকশায় চেপে পুরো বাজার ঘুরুন — প্রায় ১৫০-২০০ INR (২১০-২৮০ টাকা) এ দরদাম করুন।
৩. লাল কেল্লার বাইরের দিক (Red Fort Exterior)
ভেতরে ঢোকার সময় না থাকলেও বাইরে থেকে দেখুন — বিশাল লাল দেয়াল আর বুরুজ নিজেই একটা দর্শনীয় দৃশ্য। সকালে ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ আলো। সামনের রাস্তায় ফুলের বাজার বসে ভোরবেলা।
৪. খারি বাওলি মশলার বাজার (Khari Baoli Spice Market)
এশিয়ার বৃহত্তম মশলার পাইকারি বাজার — বস্তায় বস্তায় এলাচ, গোলমরিচ, হলুদ, লবঙ্গ স্তূপ করা। গন্ধে মাথা ঘুরে যাবে — ভালো অর্থে! এখান থেকে মশলা কিনে বাংলাদেশে নিয়ে যেতে পারেন। দোকানদাররা ইংরেজি বোঝেন।
৫. পরাঁঠেওয়ালি গলি (Paranthe Wali Gali)
১৫০ বছরেরও বেশি পুরনো এই গলিতে শুধু পরাঁঠা বিক্রি হয় — ৫০ রকমের পরাঁঠা, দই আর আচারের সাথে। এটা পুরনো দিল্লির অবশ্যই স্বাদ নেওয়ার জায়গা। একটা পরাঁঠা ৬০-১৫০ INR (৮৪-২১০ টাকা) — বেশিরভাগ ভেজিটেরিয়ান।
৬. ফতেহপুরি মসজিদ (Fatehpuri Masjid)
চাঁদনি চকের পশ্চিম প্রান্তে ১৬৫০ সালে শাহজাহানের স্ত্রী নির্মিত এই মসজিদ তুলনামূলক শান্ত — জামা মসজিদের মতো ভিড় নেই। মসজিদের পেছনে পুরনো হাভেলির গলি ঘুরে দেখুন। প্রবেশ বিনামূল্যে।
৭. কিনারি বাজার (Kinari Bazaar)
বিবাহের সাজসজ্জার জন্য বিখ্যাত এই বাজারে ঝলমলে লেস, ফুলের মালা, বাজনদার টুপি, কনের গহনা সব পাবেন। পাকিস্তান আর বাংলাদেশের বিয়ের সাজের মতোই অনেক কিছু — চেনা-চেনা লাগবে। দরদাম করুন।
৮. গৌরী শংকর মন্দির (Gauri Shankar Temple)
৮০০ বছরের পুরনো এই শিব মন্দির চাঁদনি চকের মাঝে — হিন্দু তীর্থযাত্রীদের ভিড় লেগেই থাকে। বাইরে থেকে দেখলেই পুরনো দিল্লির ধর্মীয় বৈচিত্র্য বোঝা যায়। পাশেই একটি শিখ গুরুদ্বারা আছে।
৯. শিশগঞ্জ গুরুদ্বারা (Shish Ganj Gurudwara)
শিখদের ৯ম গুরু Guru Tegh Bahadur এর শহীদ হওয়ার স্থানে নির্মিত এই গুরুদ্বারা সব ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত। ভেতরে বিনামূল্যে লঙ্গর (সামুহিক ভোজন) পাওয়া যায় — ভেজিটেরিয়ান। মাথায় রুমাল ঢেকে যান।
১০. দারিবা কালান সিলভার মার্কেট (Dariba Kalan Silver Market)
মোঘল আমল থেকে চলে আসা এই রূপার বাজারে সূক্ষ্ম কারুকাজের রূপার গহনা পাবেন — আধুনিক ডিজাইন আর ঐতিহ্যবাহী মোঘলাই স্টাইল দুটোই। দরদাম করুন এবং কেনার আগে একাধিক দোকান দেখুন।
সস্তায় দিল্লি ফ্লাইট খুঁজতে Tripzao এ সার্চ করুন — multi-city route এ আরও সাশ্রয় হয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
পুরনো দিল্লির হেরিটেজ ওয়াকে কি গাইড দরকার?
বাধ্যতামূলক না, কিন্তু ভালো গাইড ইতিহাস বলে দেওয়ায় অভিজ্ঞতা দ্বিগুণ হয়। দিল্লি টুরিজমের অফিশিয়াল গাইড ৫০০-১,০০০ INR এ পাওয়া যায়।
পুরনো দিল্লিতে কি হালাল খাবার পাওয়া যায়?
হ্যাঁ — এটা মূলত মুসলিম এলাকা। জামা মসজিদের আশেপাশে, মটন কারি, হালিম, কাবাব, বিরিয়ানি সব হালাল পাবেন। কারিম্স রেস্তোরাঁ বিখ্যাত।
পুরনো দিল্লি কি নিরাপদ?
সাধারণত নিরাপদ — তবে সন্ধ্যার পর গভীর গলিতে একা না যাওয়াই ভালো। দলে থাকুন, দামি গহনা-ঘড়ি বাইরে পরে যাবেন না।