দিল্লি — ভারতের রাজধানী — ইতিহাসের স্তরে স্তরে সাজানো এক অসাধারণ শহর। মোঘল আমলের লাল কেল্লা থেকে আধুনিক অক্ষরধাম মন্দির — সব একই শহরে। বাংলাদেশি ট্রাভেলারদের জন্য দিল্লি ট্যুর বিশেষ আনন্দের কারণ এখান থেকে আগ্রা, জয়পুর সব কাছে। ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা আগে নিয়ে আসুন — on arrival সুবিধা নেই।
ফ্লাইট: ঢাকা থেকে দিল্লি সরাসরি Biman Bangladesh Airlines বা IndiGo এ ২ ঘণ্টা | মুদ্রা: ১ INR ≈ ১.৪ BDT | সেরা সময়: অক্টোবর–মার্চ | ভিসা: ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা (e-Visa সুবিধা আছে) | মেট্রো: দিল্লি মেট্রো — সস্তা ও দ্রুত যানবাহন
১. লাল কেল্লা (Red Fort)
১৬৩৮ সালে মোঘল সম্রাট শাহজাহান নির্মিত এই লাল বেলেপাথরের দুর্গ UNESCO World Heritage Site। স্বাধীনতা দিবসে এখান থেকেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেন। ভেতরে Sound and Light Show সন্ধ্যায় হয়। প্রবেশ মূল্য বিদেশিদের জন্য ৬০০ INR (৮৪০ টাকা)।
২. কুতুব মিনার (Qutub Minar)
৭২.৫ মিটার উঁচু এই মিনার বিশ্বের সর্বোচ্চ ইটের মিনার — ১১৯৩ সালে দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবুদ্দিন আইবক নির্মাণ শুরু করেন। আশেপাশে আরও অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা আছে। প্রবেশ মূল্য বিদেশিদের জন্য ৬০০ INR (৮৪০ টাকা)।
৩. ইন্ডিয়া গেট (India Gate)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত ৮২,০০০ ভারতীয় সেনার স্মরণে নির্মিত এই স্মৃতিসৌধ দিল্লির কেন্দ্রে। রাতে আলোকসজ্জায় অসাধারণ দেখায়। সামনের লনে পিকনিক করতে দিল্লিবাসীরা আসেন। প্রবেশ বিনামূল্যে।
৪. হুমায়ুনের সমাধি (Humayun’s Tomb)
তাজমহলের নকশার পূর্বসূরি এই সমাধি — মোঘল স্থাপত্যের প্রথম পরিপক্ক উদাহরণ। ১৫৭২ সালে নির্মিত, UNESCO World Heritage Site। বাগান আর জলধারায় ঘেরা এই সমাধিতে সূর্যের আলোয় লাল পাথর যেন জ্বলে ওঠে। প্রবেশ মূল্য ৬০০ INR (৮৪০ টাকা)।
৫. লোটাস টেম্পল (Lotus Temple)
পদ্মফুলের আকৃতিতে তৈরি এই বাহাই উপাসনালয় সব ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত। সাদা মার্বেলের ২৭টি পাপড়ি দিয়ে তৈরি এই মন্দিরের ভেতরে নিরব শান্তির পরিবেশ। সোমবার বন্ধ, বাকি দিন সকাল ৯টা থেকে। প্রবেশ বিনামূল্যে।
৬. অক্ষরধাম মন্দির (Akshardham Temple)
২০০৫ সালে নির্মিত এই বিশাল হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্সে ২০,০০০ মূর্তি আছে — Guinness World Record এর অধিকারী। ভেতরে বোট রাইড আর মিউজিক ফাউন্টেন শো আছে। প্রবেশ মূল্য ১৭০ INR (২৩৮ টাকা), শো আলাদা।
৭. লোদী গার্ডেন (Lodi Garden)
শহরের মাঝে ৯০ একরের এই সবুজ বাগানে ১৫শ শতাব্দীর সমাধি ছড়িয়ে আছে — সকালে যোগ ব্যায়াম করা দিল্লিবাসীদের সাথে হাঁটতে বেশ লাগে। ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ। প্রবেশ বিনামূল্যে।
৮. কনট প্লেস (Connaught Place)
ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই গোলাকার বাণিজ্যিক এলাকা দিল্লির হৃদপিণ্ড। এখানে কেনাকাটা, রেস্তোরাঁ, সিনেমা সব আছে। সন্ধ্যায় Central Park এ বসলে শহরের প্রাণস্পন্দন অনুভব হয়। রাস্তায় দরদাম করুন।
৯. চাঁদনি চক (Chandni Chowk)
৩৫০ বছরের পুরনো এই বাজার শুধু কেনাকাটার জায়গা না — এটা দিল্লির ইতিহাস আর সংস্কৃতির জীবন্ত দলিল। স্ট্রিট ফুড স্বর্গ — পরাঠা, জিলাপি, দাহিবড়া। রিকশায় ঘুরলে বেশি মজা। হালাল ফুড প্রচুর।
১০. জাতীয় জাদুঘর (National Museum)
জানপথে অবস্থিত এই জাদুঘরে ভারতের ৫,০০০ বছরের ইতিহাস সংরক্ষিত — সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন থেকে মোঘল আমলের অস্ত্র পর্যন্ত। প্রবেশ মূল্য বিদেশিদের জন্য ৬৫০ INR (৯১০ টাকা)।
১১. হাউজ খাস ভিলেজ (Hauz Khas Village)
১৪শ শতাব্দীর হ্রদ আর মাদ্রাসার ধ্বংসাবশেষের পাশে গড়ে ওঠা এই এলাকা এখন দিল্লির ট্রেন্ডি ক্যাফে, বুটিক আর আর্ট গ্যালারির হাব। সন্ধ্যায় হ্রদের পাশে বসলে মনোরম পরিবেশ। মেট্রোতে Green Line এ যান।
১২. রাষ্ট্রপতি ভবন (Rashtrapati Bhavan)
ব্রিটিশ আমলের Viceroy’s House এখন ভারতের রাষ্ট্রপতির বাসভবন — ৩৪০টি কক্ষের এই প্রাসাদ সাধারণ সময়ে ভেতরে ঢোকা যায় না, কিন্তু বাইরে থেকে দেখলেও চমৎকার। Rajpath ধরে হেঁটে দেখুন।
১৩. বিরলা মন্দির (Birla Mandir)
১৯৩৯ সালে শিল্পপতি Birla পরিবার নির্মিত এই হিন্দু মন্দির সব ধর্মের দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। মহাত্মা গান্ধী এই মন্দির উদ্বোধন করেন — শর্ত ছিল সব জাতি-ধর্মের মানুষ প্রবেশ করতে পারবে। প্রবেশ বিনামূল্যে।
১৪. দিল্লি হাট (Dilli Haat)
আইএনএ মার্কেটের কাছে এই সরকারি হস্তশিল্প বাজারে ভারতের ২৯টি রাজ্যের কারিগরি পণ্য পাবেন — কাশ্মীরি শাল, রাজস্থানি পুতুল, বাংলার কাঁথা সব এক জায়গায়। প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। প্রবেশ মূল্য ১০০ INR (১৪০ টাকা)।
১৫. জন্তর মন্তর (Jantar Mantar)
১৭২৪ সালে মহারাজা জয় সিং নির্মিত এই মানমন্দিরে বিশাল পাথরের যন্ত্র দিয়ে সময় আর গ্রহের গতিবিধি মাপা হতো — বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন। Connaught Place এর কাছেই। প্রবেশ মূল্য ৩০০ INR (৪২০ টাকা)।
সস্তায় দিল্লি ফ্লাইট খুঁজতে Tripzao এ সার্চ করুন — multi-city route এ আরও সাশ্রয় হয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
বাংলাদেশ থেকে দিল্লি যেতে কত খরচ হয়?
ঢাকা থেকে দিল্লি রিটার্ন ফ্লাইট ২৫,০০০-৫০,০০০ টাকা। দিল্লিতে মাঝারি হোটেলে দৈনিক ২,৫০০-৬,০০০ টাকা। ৫ দিনের ট্যুরে মোট ৬০,০০০-১,০০,০০০ টাকা বাজেট রাখুন।
দিল্লিতে কি হালাল খাবার পাওয়া যায়?
অবশ্যই — চাঁদনি চক, জামা মসজিদ এলাকায় প্রচুর হালাল রেস্তোরাঁ আছে। কারিম্স রেস্তোরাঁ (জামা মসজিদের কাছে) বিখ্যাত মোঘলাই খাবারের জন্য।
দিল্লি মেট্রো কিভাবে ব্যবহার করব?
Token বা Tourist Card কিনুন — ১ দিনের আনলিমিটেড কার্ড ২০০ INR (২৮০ টাকা)। Google Maps এ মেট্রো রুট দেখায়। ইংরেজি announcement থাকে, তাই সহজেই চলাফেরা করা যায়।