আমিয়াখুম — এই নামটা শুনলেই বাংলাদেশি ট্রেকারদের চোখ চকচক করে ওঠে। বান্দরবানের থানচি উপজেলায় দিনের পর দিন হেঁটে, নৌকায় ভেসে, ঝিরিপথ পার হয়ে এই জলপ্রপাতে পৌঁছাতে হয়। কিন্তু যখন সেই সবুজ ক্যানভাসের মাঝখানে ধবধবে সাদা জলধারা দেখবেন — তখন বুঝবেন, পুরো কষ্টটা ছিল একটা পুরস্কারের জন্য।
দ্রুত তথ্য
- অবস্থান: থানচি উপজেলা, বান্দরবান
- ট্রিপ ধরন: ২–৩ দিনের ট্রেকিং
- গাইড: বাধ্যতামূলক
- সেরা সময়: অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি
- বাজেট: ৬,০০০–১০,০০০৳ (পুরো ট্রিপ)
কেন আমিয়াখুম এত বিশেষ?
বাংলাদেশে এমন জায়গা খুব কম আছে যেখানে পৌঁছাতে হয় থানচি থেকে নৌকায়, তারপর হেঁটে ঝিরিপথ পার হয়ে। রাস্তা নেই, মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই — শুধু প্রকৃতি আর আপনি। আমিয়াখুমের জলপ্রপাত নিজেই অসাধারণ, কিন্তু পুরো যাত্রাপথটাও কম আকর্ষণীয় নয় — পদ্মঝিরি, থুইসাপাড়া, দেবতাপাহাড় হয়ে যাওয়ার রাস্তায় প্রকৃতির যে রূপ দেখবেন সেটা ভোলার মতো না।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বান্দরবান বাসে (৮০০–১,৮০০৳), তারপর বান্দরবান থেকে থানচি চান্দের গাড়ি বা লোকাল বাসে। অথবা বান্দরবান থেকে জিপ ভাড়া ৫,৫০০–৬,০০০৳।
থানচি থেকে সাঙ্গু নদীতে ইঞ্জিন নৌকায়। ভাড়া ৪,০০০–৪,৫০০৳ (সারাদিন বা ২ দিন)। পদ্মঝিরি থেকে ট্রেকিং শুরু।
মোট ৬–৮ ঘণ্টার ট্রেকিং। গাইড ভাড়া ৪,৫০০–৫,০০০৳। গাইড ছাড়া এই পথে যাওয়া অসম্ভব।
কী দেখবেন
আমিয়াখুমের মূল ঝর্ণা ছাড়াও পথে পাবেন পদ্মঝিরির পাথুরে সৌন্দর্য, থুইসাপাড়ার আদিবাসী জীবন এবং দেবতাপাহাড়ের রহস্যময় বনপথ। কাছেই রয়েছে সাতভাইখুম — একই ট্রিপে দুটো দেখে আসতে পারেন। রাতে আদিবাসী পাড়ায় থাকলে তারার আলোয় পাহাড়ের রূপ দেখার সৌভাগ্য হতে পারে।
কোথায় থাকবেন
আদিবাসী পাড়া
থুইসাপাড়া বা কাছের পাড়ায় আদিবাসী ঘরে থাকা। ১৫০৳/রাত।
থানচি
থানচিতে BGB রিসোর্ট ও স্থানীয় গেস্টহাউস। ৫০০–১,৫০০৳/রাত।
কোথায় খাবেন
আদিবাসী পাড়ায় স্থানীয় খাবার পাওয়া যায়, সাধারণত ভাত-ডাল-সবজি, মূল্য ১২০–১৫০৳/বেলা। থানচি বাজারে কিছু রেস্তোরাঁ আছে। দীর্ঘ ট্রেকের জন্য শুকনো খাবার (চিড়া, গুড়, বিস্কুট, চকলেট) নিজে নিয়ে যাওয়া উচিত।
আনুমানিক বাজেট
অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি এই ট্রিপের সেরা সময়। জুন–আগস্টে বন্যার ঝুঁকি থাকে এবং পথ বিপজ্জনক হয়ে যায়। দলবেঁধে যান — একা বা দুজনে এই ট্রেক করা উচিত নয়।
সতর্কতা
থানচি চেকপোস্টে NID কপি ও ছবি জমা এবং সেনাবাহিনীর অনুমতি (permit) নেওয়া বাধ্যতামূলক। গাইড ছাড়া এই ট্রেকে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। ফোন নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বন্ধ থাকে।
বান্দরবান ট্রিপে সস্তায় ফ্লাইট বা বাস খুঁজতে Tripzao-তে সার্চ করুন — multi-city route-এ আরও সাশ্রয় হয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
আমিয়াখুম যেতে কত দিন লাগে?
সাধারণত ২–৩ দিনের ট্রিপ। প্রথম দিন থানচি, দ্বিতীয় দিন ট্রেক ও ঝর্ণা দর্শন, তৃতীয় দিন ফেরা। সাতভাইখুম একসাথে দেখতে চাইলে ৩–৪ দিন রাখুন।
আমিয়াখুমে অনুমতি কোথায় নেবেন?
থানচি উপজেলা সদরে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে permit নিতে হয়। NID কপি, ছবি ও গাইডের তথ্য লাগে। সকাল সকাল গেলে সহজে পাবেন।
শীতে না বর্ষায় যাওয়া ভালো?
অক্টোবর–নভেম্বর সবচেয়ে আদর্শ — ঝর্ণায় পানি থাকে এবং ট্রেকের রাস্তাও নিরাপদ। বর্ষায় ঝর্ণা বড় হয় কিন্তু পথ পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক।