পুরান ঢাকার বাংলাবাজারের গলিপথে শ্রীশদাস লেনে একটি পুরনো ভবন দাঁড়িয়ে আছে যার দেওয়ালে লেগে আছে শত বছরের সাহিত্য ও সংস্কৃতির স্মৃতি। এটি বিউটি বোর্ডিং — বাংলাদেশের কবি, লেখক ও শিল্পীদের চিরকালের আড্ডার জায়গা। জীবনানন্দ দাশ থেকে শুরু করে শামসুর রাহমান, হুমায়ূন আহমেদ — অনেক কিংবদন্তি এই বোর্ডিংয়ের ভাতের হোটেলে বসে আলাপ করেছেন, লিখেছেন। বাংলাদেশের সাহিত্যিক ইতিহাসের সাথে নিজেকে যুক্ত করতে চাইলে একবার হলেও আসুন এখানে।
- অবস্থান: শ্রীশদাস লেন, বাংলাবাজার, পুরান ঢাকা
- প্রবেশ মূল্য: বিনামূল্যে (হোটেলে খেলে খাবারের দাম দিতে হবে)
- বিশেষত্ব: শতবর্ষী সাহিত্যিক আড্ডার ঐতিহাসিক স্থান
- সেরা সময়: সকাল বা বিকেলে, সাহিত্যিক মৌসুমে
- খাবার: ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবার সাশ্রয়ী মূল্যে
বিউটি বোর্ডিংয়ের ইতিহাস
বিউটি বোর্ডিং প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আনুমানিক বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে। বাংলাবাজার তখন বাংলাদেশের প্রকাশনা ও সাহিত্যের কেন্দ্রবিন্দু। এই অঞ্চলে বহু প্রকাশনা সংস্থা ও বই দোকান থাকায় কবি-লেখকরা এখানেই আড্ডা দিতেন। বিউটি বোর্ডিং ছিল সেই আড্ডার মূল কেন্দ্র। রান্না হতো সরল বাঙালি রান্না — ভাত, ডাল, মাছের ঝোল। দাম কম ছিল বলে স্বল্প আয়ের কবি-লেখকরা এখানেই খেতেন। আজও সেই ধারা অব্যাহত আছে।
কীভাবে যাবেন
গুলিস্তান বা সদরঘাট থেকে রিকশায় ১০–১৫ মিনিটে বাংলাবাজার পৌঁছান।
বাংলাবাজারের বই দোকানের সারি পার হয়ে সামান্য এগিয়ে যান।
শ্রীশদাস লেনে প্রবেশ করে পুরনো বোর্ডিং সাইনবোর্ড দেখলেই চিনতে পারবেন।
কাছাকাছি কোথায় থাকবেন
পুরান ঢাকা
হোটেল ৬০০–১,৫০০৳/রাত, ঐতিহাসিক পরিবেশ
মতিঝিল
হোটেল ১,৫০০–৩,৫০০৳/রাত, আধুনিক সুবিধা
কোথায় খাবেন
বিউটি বোর্ডিংয়ের নিজস্ব হোটেলেই খেতে পারেন — সাধারণ বাঙালি রান্না, মাত্র ৫০–১২০৳ এ পেটভরা খাবার। পুরান ঢাকায় হাজীর বিরিয়ানি, আল রাজ্জাক, কাশ্মির কাচ্চি সব কাছেই আছে। চকবাজারে রাতের বিশেষ পুরান ঢাকার খাবারের জন্য যেতে পারেন।
বাংলাবাজারে বইমেলার সময় বা একুশে ফেব্রুয়ারির আশপাশে এলে পুরো এলাকায় এক অন্যরকম সাহিত্যিক পরিবেশ পাবেন। বিউটি বোর্ডিং তখন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে।
ভ্রমণ টিপস
বিউটি বোর্ডিংয়ের মূল আকর্ষণ হলো এর পরিবেশ ও ইতিহাস, সাথে সাশ্রয়ী খাবার। এখানে এসে পুরনো বাংলা সাহিত্যের স্মৃতিবিজড়িত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটান। বাংলাবাজারে বই কেনার সুযোগও নিন — এখানে অনেক দুষ্প্রাপ্য বই পাওয়া যায়।
বোর্ডিংটি জীর্ণ অবস্থায় আছে এবং কিছু অংশ পুরনো। পুরো ভবনে না ঘুরে শুধু নিচতলার হোটেল ও আড্ডার জায়গায় সময় কাটানোই নিরাপদ।
ঢাকা থেকে ঢাকায় যাওয়ার সবচেয়ে সাশ্রয়ী ফ্লাইট খুঁজতে Tripzao-তে সার্চ করুন — multi-city route-এ আরও বেশি সাশ্রয় হয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
বিউটি বোর্ডিং কি এখনও চালু আছে?
হ্যাঁ, বিউটি বোর্ডিং এখনও চালু আছে এবং ভাতের হোটেল হিসেবে সাধারণ মানুষ ও সাহিত্যপ্রেমীরা এখানে আসেন। তবে ভবনটির অবস্থা পুরনো। নতুন প্রজন্মের সাহিত্যিকরাও মাঝে মাঝে এখানে আড্ডায় আসেন।
এখানে কি শুধু খেতেই আসা যায়?
না, খাওয়া ছাড়াও পরিবেশ উপভোগ করতে আসা যায়। সাহিত্যিক ইতিহাসের টানে অনেকেই শুধু এটি দেখতে আসেন। তবে খাবার খেলে ইতিহাসের আরও কাছাকাছি মনে হবে।
পুরান ঢাকার আর কী কী দেখা যাবে কাছে?
বিউটি বোর্ডিং থেকে হেঁটে বা রিকশায় আহসান মঞ্জিল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, লালবাগ কেল্লা, স্টার মসজিদ ও হোসেনী দালান দেখা যায়। পুরান ঢাকা সারাদিনের গন্তব্য।
