bangladesh · Editorial

কুতুবদিয়া দ্বীপ

কুতুবদিয়া (Kutubdia) কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটা দ্বীপ উপজেলা। বিচিত্রন রকম বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ এই দ্বীপটির আয়তন প্রায় ২১৬ বর্গ কিলোমিটার। এই দ্বীপে রয়েছে

Photograph · Collected for Tripzao Journal

কুতুবদিয়া (Kutubdia) কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটা দ্বীপ উপজেলা। বাস ভেদে ভাড়া লাগবে ৯০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম বিভাগ

কুতুবদিয়া দ্বীপ

কুতুবদিয়া দ্বীপ সম্পর্কে

ঢাকা থেকে সোহাগ পরিবহন, টি আর ট্রাভেলস, গ্রীন লাইন পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সেন্টমার্টিন পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন, এস আলম, শ্যামলী, ইউনিক, ঈগল ইত্যাদি এসি/ নন-এসি বাস কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে প্রত্যেক দিন যাত্রা করে। যাওয়া আসায় ৬-৭ ঘণ্টা লাগবে, বাকি সময় ঘুরে দেখার সুযোগ মিলবে। বিচিত্রন রকম বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ এই দ্বীপটির আয়তন প্রায় ২১৬ বর্গ কিলোমিটার।

এসব বাসে করে কক্সবাজার এর চকরিয়া বাস স্ট্যান্ড নামতে হবে।

কোথায় খাবেন

খুব ভালো কোন রেস্তোরাঁ না থাকলেও কুতুবদিয়া দ্বীপের বাজারের জায়গাীয় হোটেল গুলোতে শুঁটকি, ভর্তা, বিচিত্র ধরণের মাছ ও মাংস দিয়ে উদর পুর্তি করার সুযোগ পাবেন। যোগাযোগ করার জন্য ফোন করতে পারেন 01819647355 এবং 01722086847 মোবাইল নাম্বারে। কুতুবদিয়া দ্বীপের দর্শনীয় জায়গাকুতুবদিয়া চ্যানেল: মাগনামা ঘাট থেকে কুতুবদিয়া দ্বীপে যাবার সময় এই চ্যানেলটি পাড়ি দিতে হবে।

একদিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা ও খরচচট্রগ্রাম থেকে খুব সকালে রওনা দিলে বায়ু বিদ্যুৎ ও লাইট হাউস দেখে দিনের বেলায় ফিরে আসা যাবে। বড়ঘোপ বাজার থেকে ৩০-৪০ টাকা রিক্সা ভাড়ায় কিংবা ৫-১০ টাকা টেম্পু ভাড়ায় বায়ু বিদ্যুৎ প্লান্টে যাওয়া যায়। নিরিবিলি সৈকতের কাছে ক্যাম্পিং করার জন্যে বহুেই এই দ্বীপকে বেছে নেন।

চকরিয়া থেকে কুতুবদিয়াচকরিয়া থেকে সিএনজি বা লোকাল বাসে করে রওনা দিতে হবে মগনামা ঘাটে, যা প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে এবং পৌঁছাতে ৪৫-৫০ মিনিট সময় লাগে। তিনি মৃত্যু বরণ করেন ২০০০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। এই দরবারের প্রতিষ্ঠাতা শাহ আব্দুল মালেক আল কুতুবী ১৯১১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

নিরাপত্তা নিয়ে কোন সংশয় নেই। এখানে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় নানা ধরণের নন-এসি রুম পাওয়া যায়। আর এই দ্বীপে মানুষের পদচারণা শুরু হয় পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষের দিকে।

স্পিড বোট ও ইঞ্জিন নৌকায় দ্বীপ থেকে ছেড়ে আসার শেষ সময়টা আগেই জেনে রাখুন। প্রকৃতির উপায়ে লবণ উৎপাদন দেখতে হলে চলে আসতে পারেন কুতুবদিয়ায়। বাতিঘর: অসংখ্যবছর আগে সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজেকে পথ দেখাতে কুতুবদিয়ায় একটা বাতিঘর নির্মাণ করা হয়েছিল, ভাটার সময় সেই বাতিঘরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।

ইতিহাসধারণা করা হয় চতুর্দশ শতাব্দীর শেষের দিকে সাগরের বুকে কুতুবদিয়া দ্বীপ জেগে উঠে। বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র: কুতুবদিয়া সমুদ্র সৈকতের দক্ষিণে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

কোথায় থাকবেন

দর্শনার্থীদের থাকার জন্য কুতুবদিয়া দ্বীপের বড়ঘোপ বাজারে ‘হোটেল সমুদ্র বিলাস’ নামে একটা আবাসিক হোটেল চালু আছে। ভ্রমণ টিপসকুতুবদিয়া দ্বীপে কোন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই, এখানে জেনারেটর ও সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো হয়। শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসাবে কুতুবুদ্দীনের নামানুসারে এ দ্বীপের না রাখা হয় ‘কুতুবুদ্দীনের দিয়া’ যা পরবর্তীতে ‘কুতুবদিয়া’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

ওখান থেকে কুতুবদিয়া লাইটহাউস দেখা যায়। নির্জন এই সৈকতে দর্শনার্থীের আনাগোনা খুব কম যদিও এখানে জেলেদের কর্মব্যস্ততা চোখে পড়ে। সমুদ্রের খুব কাছে হওয়ায় এই হোটেলে বসে সমুদ্র দেখা করা যায়।

সমুদ্র সৈকত ধরে উত্তর দিকে গেলে এখন নির্মিত নতুন বাতিঘর দেখার সুযোগ পাবেন। বড়ঘোপ বাজারের “নিউ মদিনা” কিংবা “ক্যাফে আলম” তুলনামূলক ভালো খাবার পাওয়া যায়। এখানে প্রায় এক হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

২০০-২৫০ টাকা বাস ভাড়ায় চকরিয়া যেতে সময় লাগবে প্রায় আড়াই থেকে প্রায় তিন ঘন্টার মত। প্রতিবছর ৭ ফাল্গুন শাহ আব্দুল মালেক আল কুতুবীর মৃত্যুবার্ষিকীতে হাজার হাজার ভক্তের আগমন ঘটে। সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার জন্য আদর্শ জায়গা হচ্ছে কুতুবদিয়া সমুদ্র সৈকত।

অবশ্যই ভাটার সময় সাগরে নামা থেকে বিরত থাকুন। সময় লাগবে আনুমানিক ৪০-৫০ মিনিট। মগনামা ঘাট থেকে কুতুবদিয়া যাওয়ার জন্য জায়গাীয় ‘ডেনিশ বোট’ (বড় ইঞ্জিনচালিত নৌকা) এবং স্পিডবোট পাওয়ার সুযোগ আছে।

ডেনিশ বোটে জনপ্রতি ভাড়া ৩০ টাকা এবং সময় লাগে ৩০-৪০ মিনিট, আর স্পিডবোটে ১০ মিনিটেই দ্বীপে পৌঁছানো সম্ভব। এছাড়া ক্যাম্পিং এর জন্যে আদর্শ কুতুবদিয়া দ্বীপ। কক্সবাজার থেকে কুতুবদিয়াকক্সবাজার থেকে চকরিয়া বাস স্ট্যান্ড হয়ে মগনামা ঘাটে যাওয়া যায় কিংবা কক্সবাজার থেকে মহেশখালি নৌপথে গিয়ে মহেশখালি থেকে সড়কপথে মগনামা ঘাট যাওয়া যায়।

বায়ু বিদ্যুৎ প্লান্ট দেখে রিক্সায় হাসপাতাল গেট এসে, হাসপাতাল গেইট থেকে সিএনজি কিংবা রিকশায় কিংবা জিপে করে দরবারের গেইটে যাওয়া যায়। যদিও জে.বি. এক্সপ্রেস, এস আলম কিংবা সৌদিয়া ডাইরেক্ট বাসে যাওয়া ভালো। সাগরের জোয়ার-ভাটা নির্নয়ের কোনো ব্যবস্থাই নেই।

সৈকতের প্রধান বৈশিষ্ট হল এখানে প্রচুর গাংচিল ঘুরে বেড়ায়। সব দেখে শেষ স্পিড বোট ছাড়ার আগেই ঘাঁটে ফিরে আসতে হবে। চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গা বাজার থেকে সকাল ৭ টায় জনপ্রতি১৫০ টাকায় ইঞ্জিন কাঠ বোটে সরাসরি কুতুবদিয়া দ্বীপের বড়ঘোপ ঘাঠে যাওয়া যায়।

‘কুতুবুদ্দীন’ নামে এক পরহেজগার ব্যক্তি এ দ্বীপে আস্তানা স্থাপন করেন। শীতকাল ছাড়া বছরের অন্যান্য সময় এটি বেশ উত্তাল থাকে। এছাড়া চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ থেকে সিএনজি দিয়ে জনপ্রতি ২২০ টাকা ভাড়ায় ২-৩ ঘন্টা সময়ে যেতে পারবেন মগনামা ঘাট।

তাই সাগরে নামতে হলে নিজ উদ্যোগে জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিতে হবে। লবণ চাষ: শীতকালে কুতুবদিয়ায় লবণ চাষ করা হয়। তারপরেও প্রয়োজন মনে হলো জায়গাীয় মানুষদের সাথে কথা বলে নিন।

এই দ্বীপে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সমুদ্র সৈকত, লবণ চাষ, বাতিঘর এবং কুতুব আউলিয়ার মাজার। চকরিয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে লোকাল সিএনজি করে জনপ্রতি ৮০-১২০ টাকা ভাড়ায় (রিজার্ভ ৩৫০-৪০০ টাকা) মগনামা ঘাটে রওনা দিতে হবে। চট্রগ্রাম থেকে কুতুবদিয়া দ্বীপচট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস স্ট্যান্ড কিংবা নতুন ব্রিজের বাস স্ট্যান্ড থেকে চকরিয়ায়/কক্সবাজার গামী যে কোন বাসে করেই চকরিয়া যাওয়া যায়।

কুতুব আউলিয়ার দরবার: কুতুব আউলিয়ার দরবার শরীফ দেখতে আপনাকে রওনা দিতে হবে দ্বীপের ধুরং অঞ্চলয়। পরবর্তীতে আরাকান থেকে বিতাড়িত মুসলমানরা যখন এই দ্বীপে আসতে শুরু করে তখন কুতুবুদ্দীন এদের আশ্রয় প্রদান করেন। কুতুবদিয়া দ্বীপ যাওয়ার উপায়ঢাকা থেকে কুতুবদিয়া দ্বীপঢাকা থেকে কুতুদিয়া যেতে হলে প্রথমে কক্সবাজার এর চকরিয়া উপজেলার বাস স্ট্যান্ড এ গিয়ে সেখান থেকে মগনামা ঘাট হয়ে কুতুবদিয়া রওনা দিতে হবে।

সমুদ্র সৈকত: কুতুবদিয়ায় রয়েছে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। প্রায়ই সূর্যাস্ত পর্যন্ত স্পিড বোট ও ইঞ্জিন নৌকা চলাচল করে।

কোথায় থাকবেন?

দর্শনার্থীদের থাকার জন্য কুতুবদিয়া দ্বীপের বড়ঘোপ বাজারে ‘হোটেল সমুদ্র বিলাস’ নামে একটা আবাসিক হোটেল চালু আছে। এখানে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় নানা ধরণের নন-এসি রুম পাওয়া যায়। সমুদ্রের খুব কাছে হওয়ায় এই হোটেলে বসে সমুদ্র দেখা করা যায়। নিরাপত্তা নিয়ে কোন সংশয় নেই। যোগাযোগ করার জন্য ফোন করতে পারেন 01819647355 এবং 01722086847 মোবাইল নাম্বারে। এছাড়া ক্যাম্পিং এর জন্যে আদর্শ কুতুবদিয়া দ্বীপ। নিরিবিলি সৈকতের কাছে ক্যাম্পিং করার জন্যে বহুেই এই দ্বীপকে বেছে নেন। তারপরেও প্রয়োজন মনে হলো জায়গাীয় মানুষদের সাথে কথা বলে নিন।

কোথায় খাবেন?

খুব ভালো কোন রেস্তোরাঁ না থাকলেও কুতুবদিয়া দ্বীপের বাজারের জায়গাীয় হোটেল গুলোতে শুঁটকি, ভর্তা, বিচিত্র ধরণের মাছ ও মাংস দিয়ে উদর পুর্তি করার সুযোগ পাবেন। বড়ঘোপ বাজারের “নিউ মদিনা” কিংবা “ক্যাফে আলম” তুলনামূলক ভালো খাবার পাওয়া যায়।

ট্রাভেল টিপস

⭐ দরকারী টিপ

কুতুবদিয়া দ্বীপে কোন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই, এখানে জেনারেটর ও সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো হয়। স্পিড বোট ও ইঞ্জিন নৌকায় দ্বীপ থেকে ছেড়ে আসার শেষ সময়টা আগেই জেনে রাখুন। তাই সাগরে নামতে হলে নিজ উদ্যোগে জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিতে হবে। সাগরের জোয়ার-ভাটা নির্নয়ের কোনো ব্যবস্থাই নেই। অবশ্যই ভাটার সময় সাগরে নামা থেকে বিরত থাকুন। প্রায়ই সূর্যাস্ত পর্যন্ত স্পিড বোট ও ইঞ্জিন নৌকা চলাচল করে।

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

ঢাকা এলাকায় কোথায় থাকবেন?

দর্শনার্থীদের থাকার জন্য কুতুবদিয়া দ্বীপের বড়ঘোপ বাজারে ‘হোটেল সমুদ্র বিলাস’ নামে একটা আবাসিক হোটেল চালু আছে। এখানে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় নানা ধরণের নন-এসি রুম পাওয়া যায়। সমুদ্রের খুব কাছে হওয়ায় এই হোটেলে বসে সমুদ্র দেখা করা যায়। নিরাপত্তা নিয়ে কোন সংশয় নেই। যোগাযোগ করার জন্য ফোন করতে পারেন 0181964735

কুতুবদিয়া দ্বীপ সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?

কুতুবদিয়া (Kutubdia) কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটা দ্বীপ উপজেলা। বাস ভেদে ভাড়া লাগবে ৯০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত। ঢাকা থেকে সোহাগ পরিবহন, টি আর ট্রাভেলস, গ্রীন লাইন পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সেন্টমার্টিন পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন, এস আলম, শ্যামলী, ইউনিক, ঈগল ইত্যাদি এসি/ নন-এসি বাস কক্সবাজারের উদ্

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.