bangladesh · Editorial

মধুপুর জাতীয় উদ্যান

জীববৈচিত্রে পরিপূর্ণ মধুপুর জাতীয় উদ্যান (Madhupur National Park) কীভাবে যাবেন, বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্রের বর্ণনা, মধুপুর উদ্যানে রাত্রি যাপনের উপায়, ভ্রমণ খরচ...

Photograph · Collected for Tripzao Journal

মধুপুর জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের অন্যতম আকর্ষণ। থাকার জন্য মধুপুর উদ্যানের ভেতরে দোখলা নামক জায়গাে গড়ে তোলা হয়েছে দোখলা রেস্ট হাউজ।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, ঢাকা বিভাগ

মধুপুর জাতীয় উদ্যান

মধুপুর জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে

টাঙ্গাইল জেলা থেকে মধুপুর উদ্যানের দূরত্ব প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। জাতীয় এ উদ্যানের ভেতরে এবং বাইরে দেখা মিলে গারো, কোচ, বামনসহ নানা আদিবাসী সম্প্রদায়ের। পোকা মাকড় এবং মশার ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে পতঙ্গনাশক ক্রিম সাথে রাখুন এবং জোঁকের ব্যাপারে সচেতন থাকুন।

মধুপুর বনে ভ্রমণের সময় যথাসম্ভব নীরবতা বজায় রাখুন। এছাড়াও এখানে আদিবাসীদের নিজস্ব তাঁতে তৈরী নানা ধরণের রেশম বস্ত্রের কারিতাস নামে একটা বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের চূড়ায় উঠে বনের পুরোটা সৌন্দর্য একনজরে উপভোগ করা যায়।

সানগ্লাস, টুপি, দূরবিন, ছাতা এবং পানির বোতল সঙ্গে রাখুন। মধুপুর জাতীয় উদ্যান (Madhupur National Park) ঢাকা থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরত্বে টাঙ্গাইলে মধুপুর উপজেলায় রয়েছে। এর মধ্যে মুখপোড়া হনুমান, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, পেঁচা, কাঠ ময়ূর, বন মোরগ, লাল মুখ বানর, বন্য শুকর ইত্যাদি বিশেষত উল্লেখযোগ্য।

বনের যত্রতত্র প্লাস্টিক প্যাকেট, বোতল ফেলবেন না। আরো যা যা রয়েছে মধুপুর জাতীয় উদ্যানেজাতীয় মধুপুর উদ্যানে রয়েছে জুই ও চামেলী বাগান, দোখলা রেস্ট হাউজ, বকুল কটেজ, চুনিয়া কটেজ এবং দুটি পিকনিক স্পট। মধুপুর জাতীয় উদ্যানটি ১৯৬২ সালে বন বিভাগের আওতাধীন আসে এবং ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী আইনের অধীনে বাংলাদেশ সরকার ১৯৮২ সালে মধুপুর বনকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

শাল গাছ এই বনের প্রধান আকর্ষণ এবং ধারণা করা হয় এই বনাঞ্চল কয়েক’শ বছরের পুরাতন। দোখলা রেস্ট হাউজে রাতে থাকার ব্যবস্থা করতে চাইলে সহকারী বন সংরক্ষক (উত্তর 01914-517256) অথবা টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কার্যালয় (0921-63524) থেকে অনুমতি ও বুকিং নিশ্চিত করতে হয়। এই কটেজগুলোতে রাতে থাকার ব্যবস্থাের সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে।

ঢাকার মহাখালি বাস টার্মিনাল থেকে বিনিময় ও শুভেচ্ছা পরিবহন নামে দুটি বাস সার্ভিস সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই রুটে চলাচল করে। মধুপুর জাতীয় উদ্যানে আছে বিচিত্রন প্রজাতির লতাগুল্ম ও বৃক্ষরাজি, যার মধ্যে শাল, বহেড়া, আমলকি, হলুদ, আমড়া, জিগা, ভাদি, অশ্বথ, বট সর্পগন্ধা, শতমূলী, জয়না, বিধা, আজুকি/হারগাজা, বেহুলা ইত্যাদি অন্যতম। মধুপুর উদ্যানে লহরিয়া বন বিট কার্যালয় সংলগ্ন একটা হরিণ প্রজনন কেন্দ্রে আছে এবং এর পাশে রয়েছে একটা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার আছে।

এ দুটি পরিবহনের ভাড়া জনপ্রতি ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা। উদ্যানের পাশ দিয়ে প্রবাহমান বংশী নদী উদ্যানকে দিয়েছে ভিন্নকেবল। আরো আছে একটা ছোট্ট বাজার ও বেশকিছু আদিবাসী পল্লী।

মধুপুর জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ পরামর্শবনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে হালকা কাপড় ও জুতা পরিধান করুন। এছাড়াও জলই, বকুল, মহুয়া ও চুনিয়া নামে আরো চারটি কটেজে অনুমতি নিয়ে থাকতে পারবেন। সবুজ অরণ্যের প্রকৃতির দৃশ্যের পাশাপাশি মধুপুর জাতীয় উদ্যানে আছে প্রায় ১১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৭ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪ প্রজাতির উভচর এবং ৩৮ প্রজাতির পাখি।

জাতীয় মধুপুর উদ্যানের আয়তন প্রায় ৮৪,৩৬৬ হেক্টর। কোথায় থাকবেনঢাকা থেকে প্রায়ই দিনে গিয়ে দিনেই মধুপুর উদ্যান দেখে ফিরে আসা যায়। যেভাবে রওনা দিতে হবেঢাকা থেকে শুধুকেবল সড়কপথে মধুপুর উদ্যানে যেতে হয়।

আরও পড়ুনখাদিমনগর জাতীয় উদ্যানজাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর

কোথায় থাকবেন?

ঢাকা থেকে প্রায়ই দিনে গিয়ে দিনেই মধুপুর উদ্যান দেখে ফিরে আসা যায়। থাকার জন্য মধুপুর উদ্যানের ভেতরে দোখলা নামক জায়গাে গড়ে তোলা হয়েছে দোখলা রেস্ট হাউজ। এছাড়াও জলই, বকুল, মহুয়া ও চুনিয়া নামে আরো চারটি কটেজে অনুমতি নিয়ে থাকতে পারবেন। এই কটেজগুলোতে রাতে থাকার ব্যবস্থাের সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে। দোখলা রেস্ট হাউজে রাতে থাকার ব্যবস্থা করতে চাইলে সহকারী বন সংরক্ষক (উত্তর 01914-517256) অথবা টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কার্যালয় (0921-63524) থেকে অনুমতি ও বুকিং নিশ্চিত করতে হয়।

ট্রাভেল টিপস

⭐ দরকারী টিপ

বনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে হালকা কাপড় ও জুতা পরিধান করুন। সানগ্লাস, টুপি, দূরবিন, ছাতা এবং পানির বোতল সঙ্গে রাখুন। মধুপুর বনে ভ্রমণের সময় যথাসম্ভব নীরবতা বজায় রাখুন। পোকা মাকড় এবং মশার ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে পতঙ্গনাশক ক্রিম সাথে রাখুন এবং জোঁকের ব্যাপারে সচেতন থাকুন। বনের যত্রতত্র প্লাস্টিক প্যাকেট, বোতল ফেলবেন না। আরও পড়ুনখাদিমনগর জাতীয় উদ্যানজাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

ঢাকা এলাকায় কোথায় থাকবেন?

ঢাকা থেকে প্রায়ই দিনে গিয়ে দিনেই মধুপুর উদ্যান দেখে ফিরে আসা যায়। থাকার জন্য মধুপুর উদ্যানের ভেতরে দোখলা নামক জায়গাে গড়ে তোলা হয়েছে দোখলা রেস্ট হাউজ। এছাড়াও জলই, বকুল, মহুয়া ও চুনিয়া নামে আরো চারটি কটেজে অনুমতি নিয়ে থাকতে পারবেন। এই কটেজগুলোতে রাতে থাকার ব্যবস্থাের সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে। দোখলা

মধুপুর জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?

মধুপুর জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের অন্যতম আকর্ষণ। থাকার জন্য মধুপুর উদ্যানের ভেতরে দোখলা নামক জায়গাে গড়ে তোলা হয়েছে দোখলা রেস্ট হাউজ। টাঙ্গাইল জেলা থেকে মধুপুর উদ্যানের দূরত্ব প্রায় ৪৭ কিলোমিটার।

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

Filed under bangladesh Dhaka guide
A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.